তাশাহুদে শাহাদত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা ও দৃষ্টিঃ

মত আছে>>>>, বসা অবস্থায় দৃষ্টি আপন কোলের দিকে থাকবে।
(ফৎওয়ায়ে আলমগীরি ১/৭৩ পৃষ্ঠা)।
সহীহ দলীল হচ্ছেঃ রাসূল(ছাঃ) যখন তাশাহুদের জন্য বসতেন শাহাদত আঙ্গুলের মাধ্যমে কিবলার দিকে ইশারা করতেন এবং সেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতেন।
(ইবনে হিব্বান হা/-১৯৪৭; ইবনে খুযায়ামা হা/-৭১৯, সনদ সহীহ)।
তাশাহুদ পড়া থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত কিংবা শেষ বৈঠকে ছালাম ফিরানো পর্যন্ত ডান হাতের শাহদত আঙ্গুল দ্বারা সর্বদা ইশারা করবে। এ সময় দৃষ্টি থাকবে আঙ্গুলের মাথায়।
(নাসাঈ হা/১০৬০,১২৭৫)।
দোয়া পড়ার সময় আঙ্গুলের দৃষ্টি যেন ইশারার বাইরে না যায়।
(আহমাদ, আবু দাউদ, মিশকাত হা/৯১১, ৯১৭; নাসাঈ হা/১২৭৫)।
ইশারার সময় আঙ্গুল দ্রুত নড়ানো ঠিক নয়, যা পাশের মুছল্লীর দৃষ্টি কেড়ে নিতে পারে।
(মুত্তাফাক আলাইহ, মিশকাত হা/৭৫৭)।
বৈঠকে দো’আ পড়ার সময় ডান হাতের আঙ্গুল গুলিকে বন্ধ (৫৩ এর ন্যায় মুষ্টি বদ্ধ) রেখে কেবল তর্জনী (শাহাদৎ) আঙ্গুল তুলে রাখতে হবে। ও আঙ্গুল দিয়ে (তাওহীদ বা) ক্বিবলার দিকে ইশারা করতে হবে এবং দৃষ্টিটা আঙ্গুলের উপর রাখতে হবে।
(মুসলিম, মিশকাত হা/৯০৬,৯০৭, আহমাদ, মিশকাত হা/৯১৭)।
কখনো বা ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙ্গুল দু’টি বন্ধ রেখে মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মিলিয়ে গোলকার বালার মত বানিয়ে তর্জনী হেলিয়ে (তাওহীদের প্রতি) ইশারা করতে হবে।
(মুসলিম, মিশকাত হা/৯০৮, আবু দাউদ, দারেমী, মিশকাত হা/৯১১)।
হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, এই আঙ্গুল অর্থাৎ তর্জনী শয়তানের জন্য লোহার চেয়েও কঠিন। (আহমাদ, বায়হাক্বী, বাযযার)।
৫৩ এর ন্যায় মুষ্টি বদ্ধ, তিনি উহা নাড়াতেন এবং দোয়া করতেন হাদীসের এই দু’টি বাক্যই প্রমাণ করে দেয় উপরোক্ত নিয়মটি ভিত্তিহীন। হাদীসে এসেছে রাসূল(ছাঃ) দুই সিজদাহর মাঝেও আঙ্গুল নাড়তেন বা ইশারা করতেন। যেমন ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ছাঃ) যখন সালাতে বসতেন—- তিনি বলেন, তিনি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন। অন্য শব্দে বলা হয়েছে, যখন তিনি তাশাহুদে বসতেন।
(মুসলিম, মসজিদে নামাযের স্থান, অধ্যায় নামাযে বসার স্থান)।
ইমাম ত্বাহাভী বলেন, আঙ্গুল নাড়ানো ও ইশারা অব্যাহত রাখা সুন্নাত।
ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, সালাতে কি আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করবে? তিনি বলেন, অবশ্যই। ইমাম মালেক ও অন্যান্যদের মত এটাই।
(মাসায়েল আনিল ইমাম আহমাদ ইবনু হানি)।
সাবেক সৌদি বোর্ড প্রধান, উসাইমীন (রহঃ) বহু আলোচনার পর বলেন ঃ যখন আপনি দোয়া করবেন, উপরের দিকে ইঙ্গিত করবেন কারণ নবী(ছাঃ)বিদায় হজ্জে খুৎবা প্রদান করে বললেন, আমি কি পৌছিয়েছি? তারা বললেন. হ্যাঁ। তিনি আসমানের দিকে আঙ্গুলটিকে ঘুরাতে থাকলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ তুমি সাক্ষি থেকো, হে আল্লাহ তুমি সাক্ষি থেকো, হে আল্লাহ তুমি সাক্ষি থেকো। এ দ্বারা প্রমাণিত হয়, আল্লাহ তায়ালা সকল বস্তুর উপরে অবস্থান করেন। এ বিষয়টি সুস্পষ্ট ও সুপ্রমাণিত ফিতারাতী ভাবে। বিবেক যুক্তি ও ঐক্যমতের এই ভিত্তিতে যখন আপনি আল্লাহ তায়ালাকে ডাকবেন, তার কাছে দোয়া করবেন তখনই আসমানের দিকে তর্জনী আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করবেন এবং তা নাড়াবেন আর অন্য অবস্থায় তা স্থীর থাকবেন। তাশাহুদে বসে তর্জনী আঙ্গুল নাড়ানো, শুধুমাত্র দু’আর সময় হবে, পুরা তাশাহুদের মধ্যে নয়। যেমন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, “তিনি উহা নাড়াতেন এবং দোয়া করতেন”।
(ফাতহুর রব্বানী ৩/১৪৭, হাসান সনদে)।
এখন আমরা অনুসন্ধান করি তাশাহুদে দু’আর স্থানগুলোঃ (১) আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতিল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু (২) আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিছ ছালিহীন। (৩) আল্লাহুম্মা ছাল্লিআলা মুহাম্মাদ ওয়া আলি মুহাম্মাদ (৪) আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ (৫) আউযু বিকা মিন আযাবি জাহান্নাম (৬) ওয়া মিন আযাবিল ক্বাবরি। (৭) ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত। (৮) ওয়া মিন ফিতনাতুল মাসীহিদ্দাজ্জাল। এই আটটি স্থানে আঙ্গুল উপরে উঠাবে। কেননা দু’আ করলেই আঙ্গুল উপরে উঠাবে। এগুলো ছাড়াও অন্য কোন দোয়া পাঠ করলেই আঙ্গুল উপরে উঠাবে।(ফতওয়ায়ে আরকানুল ইসলাম বঙ্গঃ পৃষ্ঠা-২৮০, উসাইমীন (রহঃ))।
নবী করীম(ছাঃ) দুই সিজদাহর মাঝখানে শাহাদত আঙ্গুল ইশারা করতেন।
(মুসনাদে আহমাদ ৪/২১০ পৃষ্ঠা)
এটা হল দুই সিজদাহর মাঝের জলসা। (হেদায়াতুন নবী ৭৫ পৃষ্ঠা)
ইবনু আবযা (রাঃ)থেকে বর্ণিত,রাসূল (ছাঃ)ছালাতে তার শাহাদৎ আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন।(আহমাদ হা/১৫৪০৫;সহীহ সনদে সিলসিলা সহিহাহ হা/৩১৮১)
এখানেও প্রমাণিত হয় যে, তিনি দোয়ার সময় আঙ্গুল ইশারা করতেন।
আঙ্গুল ইশারা করার বিভিন্ন মতঃ
হানাফী মতে, ‘লা’বলার সময় তর্জনী আঙ্গুল তুলতে হবে ‘ইল্লাল্লা-হ’ বলার সময় তা রেখে দিতে হবে।
মালেকীর মতে, আত্তাহিয়্যাতু শুরু থেকে সালাম ফিরানো পযন্ত আঙ্গুলটি ডানে ও বামে নাড়াতে হবে।
শাফেঈদের মতে, ‘ইল্লাল্লা-হ’ বলার সময় একবার মাত্র ইশারা করতে হবে। হাম্বলীদের মতে, যখন আল্লাহর নাম উচ্চারণ হবে তখন আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করবে কিন্তু তা নাড়াবে না।
(ফিকাহুস সুন্নাহ ১/১৩৬ পৃষ্ঠা)।
ইমাম নববী বলেন, তাশাহুদে ‘ইল্লাল্লা-হ’ বলার সময় ইশারা করতে হবে। সুবুলুস সালামে বলা হয়েছে, বায়হাক্বীর বর্ণনা অনুসারে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হ’ বলার সময় উঠাতে হবে।
আল্লামা তীবি ইবনে উমর বর্ণিত একটি হাদীসের বরাত দিয়ে বলেন, ‘ইল্লাল্লা-হ’ বলার সময় ইশারা করতে হবে, যাতে কথায় ও কাজে তাওহীদের সামঞ্জস্য হয়ে যায়।
মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী বলেন, হানাফী মতে ‘লা ইলাহা’ বলার সময় তুলতে হবে এবং ‘ইল্লাল্লা-হ’ বলার সময় রেখে দিতে হবে।
আল্লামা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী বলেন, ঐ সব মতের কোনটারই প্রমাণের আমি কোন সহীহ (হাদীস) দলীল পাই নি।(তুহফাতুল আহওয়াযী ১/২৪২)।
আলবানী (রহঃ) বলেন,প্রচলিত আছে যে, ‘লা ইলা-হা’ বলার সময় উঠাতে হবে। এগুলো সবই ব্যক্তি মতা মত। হদীসে এ গুলোর কোন দলীল নেই। এমনকি কোন হাদীসের গ্রন্থেও নেই। বরং হাদীস দ্বারা প্রমানিত হয় যে, সালাম পর্যন্ত নাড়াতে থাকতে হবে।
(আলবানী, তাহক্বীক মিশকাত হা/৯০৬-এর টিকা দ্রঃ ১/২৮৫পৃঃ)
‘আশহাদু’ বলার সময় আঙ্গুল উঠাতে হবে ও ‘ইল্লাল্লা-হ’ বলার পর আঙ্গুল নামাতে হবে বলে আমাদের সমাজে যে বিষয়টি চালু আছে তার কোন ভিত্তি নেই। কোন সহীহ দলীল নেই। ফৎওয়ায়ে আলমগীরী ৯৭ এবং তাহাতাবী ৪৩ পৃষ্ঠায় এ ধরনের কথা বলা হয়েছে। অপর পক্ষে মুনিয়াতে বলা হয়েছে ইশারা করা মাকরুহ। (প্রচলিত মাযহাবের মতেও এটা নেই। আল ফিকাহুল ইসলামী ১/৭৬৯ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে আঙ্গুল এসময়ে ইশারা করতে হবে এবং একেবারে নামানো (মিলানো) যাবে না অর্ধ নিমিত অবস্থায় ধরে রাখতে হবে সালাত শেষ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত)। পিস টিভির আলোচকগণ বলেন, আঙ্গুল উঠিয়ে নামানো সহীহ, যঈফ ও জাল সনদে কোন বর্ণনা নেই। (শায়খ মুযাফ্ফর বিন মহসিন)।
আঙ্গুল অর্ধনিমিত অবস্থায় ধরে রাখতেন, নাড়াতেন না মর্মে বর্ণিত হাদীসের সনদ ভিত্তিহীন ও যঈফ। (যঈফ আবূ দাউদ হা/৯৮৯, যঈফ নাসাঈ হা/১২৭০)।

Advertisements
Categories: Uncategorized | Leave a comment

Post navigation

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Blog at WordPress.com.

%d bloggers like this: