যুবক ও বিবাহ সমস্যা

যুবক ও বিবাহ সমস্যা:

যুব-সমাজের চরিত্রহীনতা ও ভ্রষ্টতার
অন্যতম কারন হল বিবাহ-সমস্যা। বিবাহের
বয়স হওয়া সত্বেও বিাবহ না করলে বিরূপ
প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেতে বাধ্য।
বলা বাহুল্য, যুবক যথাসময়ে বিবাহ
করলে তার দ্বারা অপকর্ম ঘটার
আশঙ্কা থাকে না। হালাল
পেয়ে হারামের পথে পা বাড়ায় না।
জীবন-সঙ্গিনী পেয়ে তার চক্ষু শীতল হয়।
ফলে অবৈধ্য সৌন্দর্যের প্রতি আর দৃকপাত
করে না।

প্রথম যৌবনে বিবাহ করলে অধ্যয়ন ও
বিদ্যার্জনের পথে বাধা পড়ে –এ
কথা যুক্তিযুক্ত নয়। বরং এর বিপরীতটাই
সঠিক। যেহেতু বিবাহের পর
যৌনক্ষুধা নিবৃত্ত হলে, চক্ষুদ্বয় শীতল হলে,
মানসিক শান্তি ও প্রবোধ
হলে তো তাতে শিক্ষার্থী শিক্ষায় অধিক
সহয়তা পাবে। কারন মস্তিষ্ক যখন প্রশান্ত
থাকবে, কুচিন্তা থেকে যখন মন যখন
পরিষ্কার থাকবে, তখন
তো অতি সহজভাবে পাঠ উপলব্ধি হবে,
কঠিন
পড়া অনায়েসে বুঝে আসবে এবং অধ্যয়নে অধিক
অভিনিবেশ করা সম্ভবপর হবে। বৈষয়িক
কোন
কাজকর্মে ব্যাকুলতা সৃষ্টি হলে স্ত্রী তা দূরীকরণে সহায়িকা হবে,
শোকে-দু:খে সান্ত্বনা দান
করবে এবং অধিক উত্তম অধ্যয়নরত হওয়ার
ব্যাপারে স্বামীকে উৎসাহিত ও
অনুপ্রাণিত করবে।

‘পুরুষে এনেছে দিবসের জ্বালা তপ্ত
রৌদ্রদাহ,
কামিনী এনেছে যামিনী-শান্তি, সমীরণ,
বারিবাহ।
দিবসে দিয়াছে শক্তি-সাহস,
নিশীথে হয়েছে বধু,
পুরুষ এসেছে মরুতৃষা লয়ে,
নারী যোগায়েছে মধু।

‘চাকরী না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে করব না,
বাড়ি না করে বিয়ে করব না, নিজের
পায়ে না দাড়িয়ে বিয়ে করব না,
বিয়ে করলে খাওয়াব কি?’ ইত্যাদি ওজরও
খোঁড়া ওজর। ভেবে দেখ, তুমি কি খাও?
তাছাড়া তুমি যে পাজিশনের ঠিক সেই
পজিশনের মেয়ে বিয়ে কর। পরন্ত রুযীর
ভার আল্লাহ্র উপর ছেড়ে দাও। তদবীর
করে যাওয়া তোমার কাজ, রুযী দান
করা আল্লাহ্র কাজ। আর বিশেষ করে বিবাহ
মঙ্গল বয়ে আনে। কারণ তা আল্লাহ্ ও তার
রাসূলের আনুগত্য। এ
আনুগত্যে আছে তোমার বহু সমস্যর
সমাধানের পথ।

মহান আল্লাহ্ বলেন,

“তোমাদের মধে যারা আবিবাহিত
(নরনারী), তাদের বিবাহ সম্পাদন কর
এবং তোমাদের দাস-দাসীদের
মধ্যে যারা সৎ -তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্ত
হলে আল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাব
মুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ্ তো প্রাচুর্যময়,
সর্বজ্ঞ”। (সূরা নূর:৩২)

আর রাসূলুল্লাহ্ (সা.) –এর
হাদিসে পাওয়া যায়, তিন
ব্যক্তিকে সাহায্যে করা আল্লাহ্র দায়িত্ব;
তাদের মধ্যে একজন হচ্ছে সেই
বিবাহকারী যে বিবাহের
মাধ্যমে (অবৈধ্য যৌনাচার হতে)
নিজেদের চরিত্রের
পবিত্রতা কামনা করে। (আহমদ, তীরমিযী,
নাসাঈ, বাইহাক্বি, হাকেম, সহীহুল
জামে ৩০৫০ নং)

Advertisements
Categories: Uncategorized | Leave a comment

Post navigation

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Create a free website or blog at WordPress.com.

%d bloggers like this: