বিদ‘আত সৃষ্টির কারণঃ

বিদ‘আত সৃষ্টির কারণঃ
১.অজ্ঞতা,২.প্রবৃত্তি পূজা,৩.তাক্বলীদবা অন্ধ অনুসরণ,৪.শারঈ বিষয়ে অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি,৫.যঈফ ও জাল হাদীসের অনুসরণ৬.বিধর্মীদের অনুকরণ,৭.নিজের জ্ঞানকে কুরআন ও সহীহ হাদীসের উপর প্রাধান্যদেওয়া,৮.পীর দরবেশের মিথ্যা কাশ্ফ ও স্বপ্নের প্রবঞ্চনা,৯.ওলামায়ে কেরামের নীরবতা ও স্বার্থাম্বেষণ।
অজ্ঞতাঃ
আল্লাহ কর্তৃক নাযিল কৃত অহি-র বিধান তথা কুরআন ও সহীহ হাদীস সর্ম্পকে জ্ঞান না থাকাই সমাজে বিদ‘আত সৃষ্টির অন্যতম কারণ। সঠিক পথ না চেনার কারণে মানুষ যেমন পথ ভুল করে, তেমনি কুরআন ও সহীহ হাদীসের জ্ঞান না থাকার কারণে মানুষ শরী‘আত বর্হিভূত কাজকে ইবাদত হিসাবে গ্রহণ করে। আর এজন্যই রাসূলুল্লাহ জ্ঞানার্জনকে ফরয বলে ঘোষনা দিয়েছেন। তিনি বলেন,‘প্রত্যেক মুসলিমের উপর জ্ঞানঅর্জন করা ফরয’। (ইবনু মাজহা হা/২২৪; আলবানী,সনদ সহীহ;ছহীহুল জামে‘হা/৩৯১৩)।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সম্বন্ধে ইলমবিহীন কথা বলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন,‘বল,আমার প্রতিপালক হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা,
পাপাচার ও অসঙ্গত বিরোধিতাকে এবংকোন কিছুকে আল্লাহ্র শরীক করাকে, যার কোন দলীল তিনি অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলাকে, যে সম্বন্ধে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই’(অ‘রাফ ৭/৩৩)
‘যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হয়ো না। নিশ্চইয় কর্ণ,চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকেই জিজ্ঞাসিত হবে’(বানী ইসরাঈল ১৭/৩৬)।
হাসান বছরী (রঃ)বলেন,নিশ্চইয় বিদাতিরা ইলমের দিক থেকে একেবারেই নগণ্য। আর এ কারণেই তারা বিদ‘আতী হয়েছে।(আশ-শাতিবী,আল ই‘তিছাম২/২০৪)
‘য ব্যক্তি আমল ব্যতিত ইলমের দিকে আহবান করে সে পথবভ্রষ্ট। আর যে ব্যক্তি ইলম বিহীন আমলের দিকে আহবান করে সেও পথভ্রষ্ট। এদের চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট সে ব্যক্তি,বিদাঅতিদের পথে ইলম অন্বেষণ করে।ফলে সে কুরআন ও সুন্নাত বর্হিভূত কর্মের অনুসরন করে এবং ধারণা করে যে,ইহা ইলম;অথচ ইহা অজ্ঞতা। অনুরুপ ভাবে যে ব্যক্তি বিদ‘আতিদের পন্থায় ইবাদত করে সে ইসলামী শরী‘আত বর্হিভূত আমল করে এবং ধারণা করে যে, সে ইবাদত করছে; অথচ ইহা ভ্রষ্টতা (ইবনু তাইমিয়্যা,মাজমূ‘ফাতওয়া১১/২৭পৃঃ)
অতএব জ্ঞান এমন এক আলোকবর্তিকা, যার মাধ্যমে মানুষ জান্নাতের পথ সুষ্পষ্টভাবে দেখতে পায়। নিজেকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়। পক্ষান্তরে অজ্ঞতা এমন এক অন্ধকার, যার মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে নিজে জান্নাতের পথের দিশা হারিয়ে ফেলে এবং অপরকেও সে পথের সন্ধান দিতে পারে না। আর এরুপ অজ্ঞ ব্যক্তিরাই নিজে বিদ‘আতি হয় এবং সহীহ,যঈফ ও জাল হাদীসের মধ্যে পার্থক্য নিরুপণে অক্ষম হওয়ায় ভুল ফৎওয়া দেয়।
সাথে সাথে মানব রচিত কিছ্ছা-কাহিনী ও স্বপ্নবৃত্তান্তের মাধ্যমে মানুষকে ভ্রষ্টতার শেষ সীমানায় নিক্ষেপ করে। ফলে নিজেরা পথভ্রষ্ট হয় এবং অপরকে পথভ্রষ্ট করে এবং অপরকে পথভ্রষ্ট করে এবং পরকালে জাহান্নামের খড়ি হয়।
প্রবৃত্তিপূজাঃ
প্রবৃত্তিপূজা তথা নিজের মন যে কাজকে ভাল মনে করে তার অনুসরণ করা বিদ‘আত সৃষ্টির অন্যতম একটি কারণ। শয়তান মানুষকে জাহন্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য সদা বধ্য পরিকর। সে ইসলাম বর্হিভূত কাজকে মানুষের সামনে খুব সুন্দর ও সুশোভিত রুপে উপস্থাপন করে। ফলে মানুষের তা সানন্দে গ্রহন করে।ধীরে ধীরে তা এক সময় ইসলামের বিধান হিসাবে মানব সমাজে পরিচিতি লাভ করে।এমনকি শেষ পর্যন্তমানুষ এর বিরুদ্ধে অবস্থানকারী কুরআন ও সহীহ হাদীসকেই অগ্রাহ্য করে বসে। পথভ্রষ্ট জাহান্নামীদের অর্ন্তভূক্ত হয়ে যায়। আল্লাহ বলেন,অতঃপর তারা যদি তোমার আহবানে সাড়া না দেয়, তাহলে জানবে যে,তারা তো কেবল তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে তা অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত আর কে? আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে পথ নির্দেশ করেন না’(কাছাছ২৮/২৩)।
অন্যত্র বলেন,‘তারা তো অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে,অথচ তাদের নিকট তাদের প্রতিপালকের পথনির্দেশ এসেছে’(নাজম৫৩/২৩)।
অন্যত্রে আরও বলেন, ‘তুমি কি তাকে লক্ষ্য করেছো ? যে তার খেয়াল-খুশিকে নিজ ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে ? আল্লাহ জেনে শুনেই তাকে বিভ্রান্তকরেছেনএবং তার হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তার কর্ণ ও হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তার চক্ষুর উপর রেখেছেন আবরণ।অতএব আলা­হর পরে কে তাকে পথনির্দেশ করবে ? তবুও কি তোমার উপদেশ গ্রহন করবে না ?’(জাছিয়া৪৫/২৩)।
প্রবৃত্তিপূজা এমন এক মারাত্মক ব্যাধি যা মানুষকে সরল-সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে বক্রু পথে অবলম্বনে বাধ্য করে । ফলে তার সামনে কুরআন ও সহীহ হাদীসের পর্বতসম দলীল পেশ করলেও সে তা অগ্রাহ্য করে নিজের মতের উপরই অটল থাকে।এমতাবস্তায়কুরআন ও সহীহ হাদীস শুনতে তার কর্ণ বধির এবং সরল ও সঠিক পথ দেখতে তার চক্ষু অন্ধ হয়ে যায়। এমনকি তার মতকে বলবৎ রাখতে কুরআন ও সহীহ হাদীসের অপব্যাখায় লিপ্ত হয়। কখনো কুরআনের একটি মাত্র আয়াত অথবা হাদীসের কোন অংশকে নিজের মতের উপর দলীল হিসাবে পেশ করে নিজেকে কৃতার্থ মনে করে না। অথচ পূর্ণ হাদীস ও আয়াতের ব্যাখা জানার প্রয়োজন মনে করে না। আর এর ফলেই সমাজে সৃষ্টি হয় নানা বিদ‘আত।
তাক্বলীদ বা অন্ধ অনুসরণঃ
আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে আশরাফুল মাখলূকাত তথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন এবং তার সার্বিক জীবন পরিচালনার যাবতীয়বিধি-বিধান নাযিল করেছেন।সাথে সাথে নির্দেশ দিয়েছেন,‘তোমদেরনিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতির্ণ হয়েছে, তোমরা তার অনুসরণ কর, আর তেমরা আল্লাহকে ছেড়ে অন্য কাউকে বন্ধুরুপে অনুসরণ কর না । তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।(আ‘রাফ-৭৩) অথচ মানুষ যখন আল্লাহর এই নির্দেশকে উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি বা মাযহাবের তাক্বলীদের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়েছে, ঠিক তখনই অনেক ক্ষেত্রে কুরআন ও সহীহ হাদীসকে অগ্রাহ্য বিদ‘আতি কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়েছে। মা‘ছুমী (রহঃ) বলেন, ‘প্রচলিত নব আবি®কৃত মাযাহাব সমূহের অন্ধ অনুসারীদের ব্যাপারে আশ্চার্যের বিষয় হলো,নিশ্চয়ই তাদের (মুক্কালিদ) তারই অনুসরণ করে,যা কেবল তার মাযাহাবের দিকে সর্ম্পকিত, যদিও তা দলীর থেকে অনেক দূরে হয় এবং বিশ্বাস করে যে তিনি (অনুসরণীয় ইমাম) আল্লাহ প্রেরিত নবী।আর অন্যজন হক্ব এবং সঠিকতা থেকে অনেক দুরে । আর আমরা লক্ষ্য করেছি এবং পরীক্ষা করে দেখেছি যে, নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত মুক্কালিদরা বিশ্বাস করে যে, তাদের ভুল হওয়া অসম্ভব। বরং তিনি যা বলেছেন তাই সঠিক। কিন্তু তারা তাদের অন্তরে গোপন রেখেছে যে, তারা কখনই তাদের (অনুসরণীয় ইমাম) তাক্বলীদ ছাড়বে না, যদিও দলীল তার বিপরীতে যায়।(হাদিয়্যাতুস সুলতান ৭৬পৃঃ)
কামাল বিন হুমাম হানাফী (রহঃ) বলেন,‘সহীহ মতে নির্দিষ্ট কোন মাযহাবের অন্ধ অনুসরন করা অপরিহার্য নয়। কেননা তার (মাযহাবের) অন্ধ অনুসরন করা অপরিহার্য করা হয়নি। আল্লার এবং তার রাসূল যা ওয়াজিব করেননি তা কখনোই ওয়াজিব হবেনা।আর আল্লার ও তার রাসূল
মানুষের মধ্যে কারো উপর ইমামগণের কোন একজনের মাযাহাবকে গ্রহণ করা ওয়াজিব করেননি যে, দ্বীনের ব্যাপারে তার (ইমাম) আনীত সকল কিছুই গ্রহণ করবে এবং অন্যের সকল কিছু পরিত্যাগ করবে। নির্দিষ্ট কোন মাযাহাবের অন্ধ অনুসরণ অপরিহার্য হওয়ার কথা বলা ছাড়াই মর্যাদাপূর্ণ শতাব্দি সমূহ অতিবাহিত হয়েছে। (হাদিয়্যাতুস সুলতান ৫৬পৃঃ)
সাবেক সঊদী গ্র্যান্ড মুফতী,বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন শায়খ আব্দুলাহ বিন বায (রহঃ) বলেন, ‘চার মাযাহাবের কোন এক মাযাহাবের ত্বাকলীদ করা ওয়াজীব’ মর্মে প্রচলিত কথাটি নিঃসন্দেহে ভুল;বরং চার মাযাহাব সহ অন্যদের ত্বাকলীদ করা ওয়াজীব নয়। কেননা কুরআন ও সুন্নাহ-এর ইত্তেবা করার মধ্যেই হক নিহিত আছে,কোন ব্যক্তির ত্বাকলীদের মধ্যে নয়।
(আঃবিঃবায, মাজমূ ফাতওয়া,৩/৭২পৃঃ)
শারঈ বিষয়ে অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়িঃ
মানব জতির উপর অবশ্য কর্তব্য হ‘ল, অহির বিধান যেভাবে নাযিল হয়েছে তাকে সেভাবে অক্ষুন্ন রাখা। আল্লাহ যাকে যে মর্যাদা দিয়েছেন তাকে সেই মর্যাদায় ভূষিত করা। কিন্তু মানুষ শারঈ বিষয়ে অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি করতে করতে অনেক সুন্নাত বা নফলকে ফরযে পরিণত করেছে। ইসলামী শরীয়াতে খুজে পাওয়া যায় না, এমন বিষয়কে ফযীলতের উচ্চ শিখরে সমুন্নত করে নিকৃষ্ট বিদ‘আতের জন্ম দিয়েছে। খৃষ্টানরা ঈসা (আঃ)-কে নিয়ে বাড়াবড়ি করতে করতে আল্লাহর পুত্র বানিয়েছে। ছূফীরা মাটির তৈরী মুহাম্মাদ -কে নূরের তৈরী বানিয়ে আল্লাহ্র আসনে বসিয়েছে। স্বয়ং আল্লাহ্ মুহাম্মাদ -এর মৃত্যুর ঘোষণা দিলেও বাংলার অধিকাংশ মানুষ তা উপেক্ষা করে রাসূল -কে জীবিত ঘোষণা দিয়ে তাঁর জন্ম দিবস পালন উপলক্ষে অসংখ্য বিদ‘আত করে চলছে। আর এ কারণেই ইসলামী শরী‘অতে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,‘বল,হে কিতাবধারীগণ! তোমরা তোমদের দ্বীন সম্বন্ধে অন্যায় বাড়াবাড়ি কর না এবং যে সম্প্রদায় ইতিপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে,অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে ও সরল পথ হ‘তে বিচ্যুত হয়েছে, তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না’(মায়েদা৫/৭৭)।
রাসূল -বলেছেন,তোমরা (দ্বীনের মধ্যে) অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা দ্বীনের মধ্যে বাড়বাড়ি করার কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে’।
(মুসনাদে আহম্মদ হা/৩২৪৮; ইবনু মাজহা হা/৩০২৯; আলবানী,সনদ সহীহ;সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩০২৯।)
যঈফ ও জাল হাদীসের অনুসরণঃ
বিদ‘আতিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে যঈফ ও জাল হাদীসের ভিত্তিতে বিদ‘আতি কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে বিদা‘আতি কাজকে বলবৎ করার জন্য কুরআন ও সহীহ হাদীসের অপব্যাখা করে। তাদেরকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে যদি বলা হয় যে,তোমার যে হাদীসের ভিত্তিতে আমলটি করছ সেটি যঈফ অথবা জাল,তাহ‘লে সাথে সাথে তারা বলে ওঠে,হাদীস কি কখনো জাল অথবা যঈফ হয়? হাদীসতো হাদীসই! কথাটি সঠিক যে,রাসূল থেকে বর্ণিত হাদীস কখনো জাল যঈফ হয়না। বরং যেসব কথা কর্ম রাসূল থেকে প্রমাণিত নয়;অথচ তা রাসূল এর দিকে সম্বন্ধ করা হয় তাই মূলতঃ যঈফ ও জাল হিসাবে প্রমাণিত।আর এরুপ অসংখ্য জাল যঈফ হাদীস সমাজে প্রচলিত আছে এবং এর অধিকাংশই হাদীসের কিতাবগুলিতে লিপিবদ্ধ হয়েছে।ফলে মানুষ বিভ্রান্তহচ্ছে এবং বিদ‘আতকে ছাড়তে তাদের কষ্ট হচ্ছে। একশ্রেণীর আলেম সমাজ উক্ত হাদীস গুলির যঈফ ও জাল হওয়ার কারণ জানলেও মাযাহবী গোঁড়ামীর ও তাদেঁর ইলমের কারণে সেগুলিকে সমাজে জিইয়ে রেখেছে।আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াত দান করুন আমীন!
{‘যঈফ’ বর্ণনা (হাদীস) আমল করা যাবে কি ?
আমরা সমাজের কিছু লোক রাসূল(ছাঃ)এবং তার সাহাবাগণ থেকে সুন্নাত গুলোকে এতই বেশি বুঝে ফেলেছি কথায় কথায় অতিরিক্ত সুন্নাত পালন করতে যেয়ে নিত্য নতুন এবং বিদ’আত সৃষ্টি করে চলেছি। বিদ’আতে হাসনা নামক বস্তু আবিষ্কার করে বসেছি। সহীহ ইলমধারী কোন আলেম কোন যঈফ হাদীসকে যঈফ বললে। আমরা বলি কিছু আলেম আছে হাদীসের সনদে সামান্য ত্রুটি থাকলেই যঈফ বলে বসে।
প্রথমে: তাদের বলবো রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, সমস্ত বিদ’আতই ভ্রষ্টতা এবং তার পরিনাম জাহান্নাম।
দ্বিতীয়ত: বিজ্ঞ আলেমরা যেটাকে যঈফ বলে থাকে তা নিজেদের কথা না। অতীত যুগের মুহাদ্দিসগণ তা নির্ধারণ করেছেন এবং আমাদের উচিৎ তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করা। কারণ হাদীসের নির্ভরতার কষ্টিপাথর একমাত্র মুহাদ্দিসগণের সিদ্ধান্ত। হাদীস কোনটি সহীহ, যঈফ অথবা মিথ্যা তা জানার জন্য সাহাবীগণ হতে তাবেঈ-তাবে তাবেঈ গণের মতামতের আলোকে পরবর্তী কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত মুহাদ্দিসগণ বিস্তারীত বিধানাবলী, লিপিবদ্ধ করে গেছেন। একমাত্র তাদের বক্তব্যের আলোকে হাদীসের মান নির্ধারণ করা হয়। অতীতের মুহাদ্দিসগণ হাদীসের বর্ণনার সাক্ষীগণের (রাবী) জীবনী সহ যাবতীয় তথ্যাদি লিপিবদ্ধ করে গেছেন।
যেমন, হাদীস সংকলনের পর হাদীস কোনটি সহীহ কোনটি যঈফ কোনটি বানোয়াট তাও বলে দিয়েছেন। বর্তমান যুগের এ বিষয়ে পারদর্শী বিশ্লেষকগণ ঐ সকল প্রমানাদি একত্রিত করে তুলনা মূলক বিবেচনা ও নিরীক্ষার মাধ্যমে হাদীস সমূহের নির্ভরযোগ্যতা বিশ্লেষণ করেছেন মাত্র এবং ভবিষ্যতেও করবেন।

Advertisements
Categories: Uncategorized | Leave a comment

Post navigation

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Blog at WordPress.com.

%d bloggers like this: