একটি অকাট্য বেদাত

মিলাদ :
মিলাদ শব্দের আভিধানিক অর্থ
হলো > জন্মসময় [লিসানুল
আরব ৩/৪৬৮] ।
কিন্তু আমাদের দেশে মিলাদ শব্দ শুধু
জন্মসময় বুঝাতে ব্যবহার করা হয় না
বরং আমরা মিলাদ বলতে একটি
বিশেষ অনুষ্ঠানকে বুঝাই, যে
অনষ্ঠানে অনেক মুসল্লি একত্রিত
হয়ে উচ্চসরে নবী (সাঃ) এর শানে
কিছু দুরুদ পাঠ করে যা নবীর (সাঃ)
ম্ত্যুর পরে কোন আবেদ বা ওয়ায়েজ
তৈরি
করেছেন ও সালাম পাঠ করা এবং
কিছু প্রশংসাসুচক বাক্য/কবিতা/
সের/পঙ্কতি/শ্লোক সুরে সুরে পাঠ
করে আর এরপর সকলে একত্রে হাত
তুলে সম্মিলিতভাবে দোয়া করে,
অতঃপর দোয়া শেষে (জিলাপ/
মিষ্টি/নিমকি) তাবারক বিতরন
করা হয় । এই সম্পুর্ন কর্মকান্ডকে
সংক্ষেপে মিলাদ বা মিলাদ
শরিফ বলে ডাকা হয় ।
এটা আমাদের মাঝে ব্যাপক হারে
প্রচলিত একটি ইবাদত বা আমল যা
সালাতের চাইতেও অনেক
সময় অনেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে
পালন করে থাকে (নাউযুবিল্লা) ।
সালাত ছেড়ে দিলেও মিলাদ
অনুষ্ঠান ত্যাগ করেন না এমন মুসল্লি
অজস্র রয়েছে । অথচ এটা দ্বীন
ইসলামের মধ্যে একটি নতুন উদ্ভাবন
(বেদআত) যা একজন মুসল্লির জন্য
জাহান্নামের উপকরন ।
মুলত বিদআত শব্দের আভিধানিক অর্থ
‘নব উদ্ভাবন’ এবং ধর্মের পূর্নতার পরে
যা উদ্ভাবন করা হয়েছে [লিসানুল
আরব ৮/৬]
যদি সহজ করে বলি তাহলে,
এমন কোন (রীতি/নীতি/প্রথা/
ইবাদত/আমল) যা শরিয়তের
অংশ বলে পরিগনিত হয় এবং তা
সওয়াব বা নেকির কর্ম বলে বিবেচ্য
হয় কিন্তু বস্তুত তার সপক্ষে কুরআনে ও
রাসুল (সা) এর
কথা,কর্ম ও সম্মতি,ইঙ্গিত কিংবা
সাহাবিগনের কারো কথা কর্ম ও
সম্মতি কিছুই নেই, তাই বিদআত।
আল্লাহ বলেন : ‘আজ
আমি তোমাদের দ্বীনকে পুর্ন করে
দিলাম'[সুরা মায়েতা :৩] যেহেতু
উপরে উল্লেখিত মিলাদ অনুষ্ঠানের
অস্তিত্ব ইসলামি শরিয়তের কোথাও
অস্পষ্ট বা আবছা ভাবেও পাওয়া
যায় না তাই এটা এক বাক্যে বিদআত
। যা বিদআত তা এক বাক্যে
পরিত্যাজ্য ।
আর মিলাদ বিদআত এবং পরিত্যাজ্য
তা একটি হাদিস দ্বারাই স্পষ্ট, রাসুল
(সা) বলেন : ” আমার কর্ম যা নয় এমন কর্ম
যদি মানুষ করে তাহলে তার কর্ম
বাতিল ” [সহীহ মুসলিম ৩২৪২]
জাবির রাঃ বলেন, রাসুল
(সা) বলেছেন : সর্বোত্তম বানী
আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম
আদর্শ মুহাম্মদের (সা) আদর্শ ও পথ ।
সবচে খারাপ হলো নবউদ্ভাবিত
বিষয় । আর সকল নবউদ্ভাবিত বিষয়ই
বিদআত আর সকল বিদআতই ভ্রষ্ঠতা এবং
সকল ভ্রষ্ঠতা জাহান্নামে যাবে ।
[নাসাঈ ১৫৬০, মুসলিম ১৪৩৫] আনাস
রাঃ থেকে, রাসুল (সাঃ) বলেন : ”
নিশ্চই আল্লাহ প্রত্যেক বিদআতির
জন্য তওবার দরজা বন্ধ করে
দিয়েছেন, যতক্ষন না সে তার
বিদআত ত্যাগ করে ” [তারগীব ওয়াত
তারহীব ১/৯৮] হাদিসটি সহীহ ।
এমনি যারা বেদআতিদের সাহায্য
ও আশ্রয় দেয় তার জন্য আল্লাহর
লানত ! আলী রাঃ থেকে, রাসুল
(সা) বলেছেন : ” যে ব্যাক্তি
দ্বীনের মধ্যে বিদআত তৈরি করে
বা কোন বিদআতিকে আশ্রয় দেয়
তার উপর আল্লাহর লানত ও
সকল ফেরেশতার লানত এবং সমস্ত
মানুষের লানত, তার কোন ইবাদত
তওবা ও সদকা কবুল
হবে না ” [বুখারী ৩১৭৯]
আলী রাঃ থেকে, রাসুল বলেন :
বিদআত প্রচলনকারীকে আশ্রয়দাতার
উপর আল্লাহর লানত [মুসলিম ৩৬৫৭]
তাবেয়ী ইব্রাহীম ইবনু মাইসারা
বলেন, রাসুল (সা) বলেন :
বিদআতিকে সন্মানকারী ইসলামের
ধ্বংস সাধনে সাহায্য করলো ।
[বায়হাকী শুয়াবুল ইমান ৭/৬১]
হাদিসটি মুরসাল । তবে মিশকাতুল
মাসাবিহ ১/৬৬ তে আলবানী
রহঃ বলেন :অনেক সাহাবি থেকেও
বর্নিত হয়েছে তাই হাদিসটি
হাসান লি গাইরিহি ।
এসকল হাদিস থেকে স্পষ্ট যে,
মিলাদ নামের বিদআত ত্যাগ করা
মুসলিমের জন্য কর্তব্য । এবার
মিলাদের সার্বিক পর্যালোচনা
করলে আরো পরিস্কার হওয়া যাবে :
যেমন মিলাদে ‘ আল্লাহুমুম্মা
সাল্লি
আলা সাইয়্যেদেনা মাওলানা
মুহাম্মাদ ‘ ও ‘ ইয়া নবী সালামু
আলাইকা ‘ এভাবে সুর করে
পাঠ করা হয় বসে, আবার রাসুলকে
(সা) হাজির মনে
করে দাড়িয়েও যায় যা স্পষ্ট শির্ক।
কিন্তু এরকম শব্দে দুরুদ পড়ার কোন
দলিল পাওয়া
যায় না । তাছারা এভাবে
সবাই একত্রে উচ্চসরে দুরুদ পড়ার কোন
দলিল নাই ।
বরং, নাফে রহঃ বলেন : এক ব্যাক্তি
ইবনে উমারের (রা) পাশে হাচি
দিয়ে বলে ‘আলহামদুলিল্লাহও আস
সালামু আলা রাসুলিল্লাহ’ । তখন
ইবনে উমার বলেন রাসুল (সা)
আমাদের এভাবে হাচি প্রদান করে
দোয়া করতে শেখাননি । বরং
তিনি শিখিয়েছেন যে, আমরা
হাচি দিলে বলব ‘আলহামদুলিল্লাহ
আলা কুল্লি হাল’। [তিরমিযী ২৭৩৮]
হাদিসটি সহীহ । এ হাদিস থেকে
স্পষ্ট যে, রাসুল সাঃ
যখন যেখানে যেভাবে যেই
পদ্ধতিতে পাঠ করতে শিখিয়েছেন
তার ব্যাতিক্রম করা মন্দ মনে করতেন
সাহাবিগন । অথচ
দুরুদ সালাম পড়া অত্যন্ত নেকির কাজ
তারপরও রাসুলের নির্দেশের
অতিরিক্ত অন্য দোয়ার সাথে তা
পাঠ করতে নিশেধ করেছেন ।
তাহলে বুঝুন, যে পদ্ধতি পুরাই নতুন
আবিস্কার সে পদ্ধতিতে
নিজেদের তৈরি দুরুদ পড়ে সওয়াব
পাওয়া কি আদৌ সম্ভব ?! বরং তা
গোমড়াহীর দরজা খুলে দেওয়ার
জন্য যথেষ্ট ।
তাছারা ‘বলাগাল উলা
বিকামালিহি’ এই যে দুরুদ পড়া হয়
এটা খুবই আপত্তিকর কথা । এর অর্থ
তিনি পৌছে গেছেন সুউচ্চতায়
নিজ কামাল দ্বারা । অথচ রাসুলকে
(সা) মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন
আল্লাহ এবং রিসালাত দিয়ে ও
শেষ নবী করে এবং তার খলিল
হিসেবে গ্রহন করে সম্মানিত
করেছেন ।অথচ ঐ দুরুদে বলা হচ্ছে
নিজ কামাল দ্বারা !
মুজাহিদ রহঃ বলেন : আমি ও ইবনে
উমার (রা) সঙ্গে ছিলাম । এক
ব্যাক্তি যোহর বা আসরের
নামাযের জন্য ডাকাডাকি করলো।
ইবনে উমার বললেন : এখান
থেকে বেরিয়ে চল, কারন এটি
একটি বিদআত ।[আবু দাউদ
৪৫৩] এবার চিন্তা করুন,
আযান ছাড়া নামাযের জন্য
ডাকাডাকি করাও যদি বিদআত
হয় তাহলে কোন দলিলের
ভিত্তিতে মিলাদ সওয়াবের কাজ
হয় ।
ইবনে উমার (রা) বলেন :
সফরের নামায ২ রাকাত(কসর)। যে
ব্যাক্তি এই সুন্নাতের খেলাফ
করলো সে কুফরী করলো । [শাতেবী,
আল ইতিসাম ১/১০৯] অর্থাত কেউ যদি
সফর অবস্থায় কসর না করে পুরো
নামায পড়াই বেশি সওয়াব ও
তাকওয়াপুর্ন মনে করে এই সুন্নাতের
খেলাফ আমল করে তাহলে তা কুফরি
হবে । যেখানে সুন্নাতের
খেলাফকে কুফরী বলা হচ্ছে
সেখানে বিদআতের হুকুম কি হতে
পারে চিন্তা করেছেন ?!!
ইবনে মাসউদ (রা) বলেন :
তোমরা অনুসরন কর, উদ্ভাবন করো না,
কারন দ্বীনের মধ্যে যা আছে তাই
তোমাদের জন্য যথেষ্ট । [দারেমী
১/৮০]
অবশেষে একটি হাদিস দিয়ে শেষ
করতে চাই, তাবেয়ী আবু আব্দুর রহমান
আস সুলামী বলেন :
আমর ইবনু উতবা আস সুলামী ও মি’যাদ
তাদের কিছু সঙ্গি নিয়ে মাগরিব ও
ইশার মাঝের সময়ে সবাই মিলে বসে
বসে নির্দিষ্ট সংখ্যায়
‘সুবহানাল্লাহ’ ‘আলহামদুলিল্লাহ’
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়তো ।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) কে এ
বিষয়ে
জানানো হলে তিনি বলেন : তারা
যখন জিকিরে বসে তখন আমাকে
সংবাদ দিবে । তারা যখন
জিকিরে বসলো তখন তাকে সংবাদ
দিলে তিনি তাদের কাছে গিয়ে
বললেন : আমি ইবনে মাসউদ বলছি,
তোমরা কি যুলুম করে বিদআত চালু
করলে? না তোমরা জ্ঞানে
বিদ্যায় মুহাম্মাদের সাহাবাগনের
উপর উঠে গেলে?
তাদের মধ্যে মি’যাদ বলল : আল্লাহর
কসম, আমরা যুলুম করে বিদআত চালু
করিনি বা জ্ঞানে সাহাবাগনের
উপরে
উঠে যাইনি(আমরা তো শুধু তাসবিহ
তাহলীল করছি)
ইবনে মাসউদ বলেন : তোমরা
সাহাবিগনের অনুসরন করলেই সফলকাম
হবে কারন তারা ইবাদতে
তোমাদের চেয়ে অনেক উত্তম ও
অগ্রসর ছিলেন । আর যদি তাদের পথ
থেকে সামান্য ডানে বা বামে
সরে যাও তবে কঠিন গোমরাহীর
মধ্যে নিপতিত হবে ।[ইবনু ওয়াদ্দাহ,
আল বিদাউ ওয়ান নাহয়ু আনহা ৮-১১
পি]
দেখুন, সুবহানাল্লাহ,
আলহামদুলিল্লাহ এবং লা ইলাহা
ইল্লাল্লাহ এসবই সহীহ মাসনুন যিকির
। কিন্তু তারপরও এভাবে সময়
নির্দিষ্ট করে সম্মিলিতভাবে
নিয়মিত যিকির করার কারনে ইবনে
মাসউদ (রা) একে বিদআত বলেছেন ।
রাসুলের (সা) যুগে এভাবে দিনে
বা রাতে কোন সময়কে নির্দিষ্ট
করে নিয়ে নিয়মিত সবাই মিলে
একত্রে যিকির করার
কোন প্রচলন ছিলো না তাই
সাহাবি ইবনে মাসউদ এভাবে
মাসনুন যিকির করাকেও বেদাআত
বলে গন্য করেছেন । মিলাদ তাহলে
কতটা ভয়াবহ বিদআত তা সহজেই বুঝা
যায় ।
আল্লাহ আমাদের বিদআত থেকে
বেচে থাকার তৌফিক দান করুন

Advertisements
Categories: Uncategorized | Leave a comment

Post navigation

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Blog at WordPress.com.

%d bloggers like this: