গোনাহ ক্ষমা করানোর পদ্ধতি ও আমল :

আল্লাহ মানব জাতিকে সৃষ্টি করে তাঁর ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন। মানুষ আল্লাহর নির্দেশ ভুলে পার্থিব চাকচিক্য দেখে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে প্রতিটি মুহূর্তেই গোনাহের মধ্যে পতিত হচ্ছে। আল্লাহ অসীম দয়ালু হিসাবে মানুষের গোনাহ ক্ষমা করার জন্য অনেক পদ্ধতি ও বিশেষ আমল নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে মানুষ তাদের গোনাহ থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে। নিম্নে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ থেকে গোনাহ ক্ষমা করানোর কতগুলি আমল বর্ণনা করা হ’ল।-
(১) যথাযথভাবে ওযূ করা :
ওছমান বিন আফফান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ভালভাবে ও সুন্দর করে ওযূ করে তার শরীর থেকে সমস্ত গোনাহ বের হয়ে যায়, এমনকি তার নখের নীচ থেকেও বের হয়ে যায়’।(মুসলিম, মিশকাত হা/২৮৪; রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১০২৬)।
(২) ওযূর পর দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করা :
ওছমান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এর ওযূর বিস্তারিত নিয়ম পেশ করার পর বলেন,
مَنْ تَوَضَّأَ وُضُوْئِىْ هَذَا ثُمَّ يُصَلِّىْ رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ نَفْسَهُ فِيْهَا بِشَيْئٍ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ.
‘যে ব্যক্তি আমার এই ওযূর ন্যায় ওযূ করে অতঃপর দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করবে। আর এমতাবস্থায় সে আপন মনে আল্লাহর ভয়-ভীতি ছাড়া অন্য কিছু ভাববে না তার পূর্বেকার সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে’।( বুখারী, মিশকাত হা/২৮৭, বাংলা মিশকাত হা/২৬৭)। যায়েদ ইবনু খালেদ আল-জুহানী (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,
مَنْ صَلَّى سَجْدَتَيْنِ لاَيَسْهُوْ فِيْهِمَا غَفَرَ اللهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ.
‘যে ব্যক্তি কোন ভুল না করে মনোযোগ সহকারে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করল, তার অতীতের গোনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন’। (আহমাদ, হাদীছ ছহীহ, আলবানী, মিশকাত হা/৫৭৭)।
(৩) মসজিদে গমন করা ও ছালাতের জন্য অপেক্ষা করা :
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের সে জিনিসটির খবর দেব না যার সাহায্যে আল্লাহ গোনাহ মুছে ফেলেন এবং যার মাধ্যমে তোমাদের মর্যাদা উন্নত হয়? ছাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেন,
إِسْبَاغُ الْوُضُوْءِ عَلَي الْمَكَارِهِ، وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ، وَانْتِظَارُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ، فَذَالِكُمُ الرِّبَاطُ. فَذَالِكُمُ الرِّبَاطُ.
‘কঠিন সময়ে পরিপূর্ণভাবে ওযূ করা, মসজিদের দিকে অধিক গমন করা এবং এক ছালাতের পর আরেক ছালাতের জন্য অপেক্ষা করা। এটাই তোমাদের প্রিয় জিনিস। এটাই তোমাদের প্রিয় জিনিস’। (মুসলিম, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১০৩০; মিশকাত হা/২৮২)।
(৪) আযান :
(ক) আযান দেওয়া :
মুওয়াযযিনের আযান ধ্বনির শেষ সীমা পর্যন্ত সজীব ও নির্জীব সকল বস্ত্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে ও সাক্ষ্য প্রদান করে। ঐ আযান শুনে যে ব্যক্তি ছালাতে যোগ দিবে সে ২৫ গুণ ছালাতের সম পরিমাণ নেকী পাবে। মুওয়াযযিনও উক্ত মুছল্লীর সমপরিমাণ নেকী পাবে এবং তার দুই আযানের মধ্যবর্তী সকল (ছগীরা) গোনাহ মাফ করা হবে’। (নাসাঈ, আহমাদ, মিশকাত হা/৬৬৭)।
(খ) আযানের জবাব দেওয়ার পর দো‘আ পড়া :
সা‘দ বিন আবী ওয়াক্কাছ (রাঃ) নবী করীম (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন,
مَنْ قَالَ حِيْنَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنَ: أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ رَضِيْتُ بِاللهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُوْلاًً، وَبِالْإِسْلاَمِ دِيْناً غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ.
‘যে ব্যক্তি মুওয়াযিযনের আযান শুনে বলে, ‘আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওহদাহু লা-শারীকালাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু, রাযীতু বিল্লাহি রাববান ওয়াবি মুহাম্মাদিন রাসূলান, ওয়া বিল ইসলামে দীনান’। ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া আর কোন মা‘বূদ নেই। তিনি একক, তার কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ তার বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ্কে রব বা প্রভু বলে মেনে নিতে, মুহাম্মাদকে রাসূল হিসাবে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসাবে গ্রহণ করতে আমি সম্মত হয়েছি। তার সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়’।( মুসলিম, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১০৪০)।
(৫) ছালাত পড়া :
ওছমান বিন আফ্ফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কে বলতে শুনেছি,
مَا مِنِ امْرِيٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلاَةٌ مَكْتُوْبَةٌ فَيُحْسِنُ وُضُوْءَهَا وَخُشُوْعَهَا وَرُكُوْعَهَا إِلاَّ كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوْبِ مَا لَمْ تُؤْتِ كَبِيْرَةً، وَذَلِكَ الدَّهْرَ كُلَّهُ.
‘যদি কোন মুসলমান ফরয ছালাতের সময় হ’লেই ভাল করে ওযূ করে তারপর খুশূ ও খুযু (বিনম্রচিত্ত ও একাগ্রতা) সহকারে ছালাত আদায় করে, তাহ’লে এ ছালাত তার পূর্বের সমস্ত গোনাহের কাফফারা হয়ে যায়। যে পর্যন্ত সে কবীরা গোনাহ থেকে দূরে থাকে। আর এ অবস্থা চলতে থাকে সমগ্র কালব্যাপী’। (মুসলিম, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১০৪৬; মিশকাত হা/২৮৬)।
অন্য হাদীছে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ও এক জুম‘আ থেকে আরেক জুম‘আ পর্যন্ত পঠিত ছালাত এর মধ্যকার জন্য কাফফারা, যে পর্যন্ত না কবীরা গোনাহ করা হয়’। (মুসলিম, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১০৪৫; মিশকাত হা/৫৬৪)।
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘তোমরা ভেবে দেখ, তোমাদের কারো ঘরের দরজায় যদি একটি নদী প্রবাহিত হ’তে থাকে এবং সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করতে থাকে, তাহ’লে তার শরীরে কোন ময়লা থাকবে কি? ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) বললেন, না তার শরীরে কোন ময়লা থাকবে না। তিনি বললেন, এটিই পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের দৃষ্টান্ত। এ ছালাতগুলির মাধ্যমে আল্লাহ গোনাহ নিঃশেষ করে দেন’। (বুখারী হা/৫২৮; মুসলিম হা/৬৬৭; রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১০৪২; মিশকাত হা/৫৬৫)।
(খ) সূরা ফাতিহা শেষে আমীন বলা :
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
إِذَا قَالَ أَحَدُكُمْ آمِيْنَ وَقَالَتِ الْمَلاَئِكَةُ فِي السَّمَاءِ آمِيْنَ فَوَافَقَتِ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَي غُفِرَ لَهُ مَاَتَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
‘যখন তোমাদের কেউ আমীন বলে তখন আসমানের ফিরিশতারাও আমীন বলে থাকে। এক আমীন অন্য আমীনের সাথে পরস্পর সুসামঞ্জস্যপূর্ণ হ’লে আমীন উচ্চারণকারীর পূর্ববর্তী যাবতীয় পাপরাশি ক্ষমা করে দেওয়া হবে’।(বুখারী হা/৭৮১।)।
অন্য হাদীছে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখন ইমাম (সূরা ফাতিহা পাঠ শেষে) গায়রিল মাগযূবি আলায়হিম ওয়ালাযযাল্লীন বলবে তখন তোমরা বল আমীন। কেননা যার কথা ফেরেশতামন্ডলীর কথার সাথে মিলে যাবে তার অতীতের পাপরাশি মার্জনা করে দেওয়া হবে’। (বুখারী হা/৭৮২; মিশকাত হা/৮২৫।)।
(গ) রাতের ছালাত তথা তাহাজ্জুদের ছালাত আদায় করা :
আবূ উমামা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,
عَلَيْكُمْ بِقِيَام اللَّيْلِ فَإنَّهُ دَابُ الصَّالِحِيْنَ قَبْلَكُمْ وَهُوَ قُرْبَةٌ لَكُمْ إِلَى رَبِّكُمْ وَمَكْفَرَةٌ للِسَّيِّئَاتِ وَمَنْهَاةٌ عَنِ الْإِثْمِ.
‘তোমাদের জন্য রাতে ছালাত আদায় করা উচিত। রাতে ইবাদত করা হচ্ছে তোমাদের পূর্ববর্তী নেক লোকদের নিয়ম। তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের পন্থা, গোনাহ মাফের উপায় এবং অপরাধ, অশ্লীলতা হ’তে বিরত রাখার মাধ্যম’। (তিরমিযী হা/৩৫৪৯, হাদীছ হাসান ছহীহ, তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/১২২৭; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১১৫৯।)।
(ঘ) সিজদা :
ছাওবান (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি,
عَلَيْكَ بِكَثْرَةِ السُّجُوْدِ فَإِنَّكَ لَنْ تَسْجُدَ لِلّهِ سَجْدَةً إِلاَّ رَفَعَكَ اللهْ بِهَا دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْكَ بِهَا خَطِيْئَةً.
‘তোমার বেশী বেশী সিজদা করা উচিত। কেননা তোমার জন্য একটা সিজদা করলেই তা দ্বারা আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে একটা উচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং তোমার গোনাহ ক্ষমা করে দেন’।( মুসলিম হা/৪৮৮; রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১০৭।)।
(ঙ) ভালভাবে ওযূ করে জুম‘আর ছালাতে আসা ও খুৎবা শুনা :
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم : مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوْءَ ثُمَّ أَتَي فَاسْتَمَعَ وَأنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ وَزِيَادَةُ ثَلاَثَةِ أَيَاَّمٍ.
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ভালভাবে ওযূ করে জুম‘আর ছালাতে আসে, খুৎবা শুনে ও নীরবে বসে থাকে, তার সেই জুম‘আ থেকে পরবর্তী জুম‘আ পর্যন্ত অতিরিক্ত আরো তিন দিনের (ছগীরা) গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়’। (মুসলিম, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১১৪৮; মিশকাত হা/১৩৮৩।)।
অন্য হাদীছে কবীরা গোনাহ থেকে দূরে থাকার শর্তে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত, এক জুম‘আ থেকে আরেক জুম‘আ এবং এক রামাযান থেকে আরেক রামাযান এই অন্তবর্তী কালের ছগীরা গোনাহগুলি মাফ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে’। (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৬৫; রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১১৪৯।)।
(৬) আল্লাহর যিকর :
(ক) ফরয ছালাতের পর আল্লাহর যিকির :
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ছালাতের পর সুবহা-নাল্লাহ ৩৩ বার, আল-হামদুলিল্লাহ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার ৩৩ বার পড়ে এবং ১০০ বার পূর্ণ করার জন্য একবার ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুল্কু ওলাহুল হাম্দু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদীর’ পড়ে, তার সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, যদিও তা সাগরের ফেনার সমান হয়’। (মুসলিম, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১৪১৯; মিশকাত হা/৯৬৭)।
(খ) প্রতিদিন ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী’ ১০০ বার পাঠ করা :
রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,
مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ فِيْ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ.
‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী’ বলবে, তার সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যদিও তা হয় সমুদ্রের ফেনার সমান’। (বুখারী, মুসলিম, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১৪১০)।
(গ) ‘সুবহা-নাল্লা-হ’ ১০০ বার পড়া :
সা‘দ বিন আবী ওয়াক্কাছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সময় আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে ছিলাম। এ সময় তিনি বললেন, তোমাদের কেউ কি প্রতিদিন এক হাযারটি নেকী অর্জন করতে পার না? উপস্থিত ছাহাবীদের মধ্য থেকে একজন জিজ্ঞেস করলেন, কেমন করে সে এক হাযারটি নেকী অর্জন করবে? রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জবাব দিলেন,
يُسَبِّحُ مِائَةَ تَسْبِيْحَةٍ فَيُكْتَبُ لَهُ أَلْفُ حَسَنَةٍ أَوْ يُحَطُّ عَنْهُ اَلْفُ خَطِيْئَةٍ.
‘সে একশ’ বার সুবহা-নাল্লা-হ পড়বে। এতে তার নামে এক হাযারটি নেকী লেখা হবে অথবা তার এক হাযার গোনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে’। (মুসলিম, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১৪৩১; মিশকাত হা/২২৯৯)।
(ঘ) তাহলীল :
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوْ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ فِيْ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُْحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ.
‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার বলবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হাম্দু ওয়া হুয়া আলা কুল্লী শাইইন ক্বাদীর’। অর্থঃ ‘আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তিনি এক, তার কোন শরীক নাই। সমস্ত রাজত্ব তার, সমস্ত প্রসংশা তার। তিনি সকল বস্ত্তর উপর ক্ষমতাবান। সে ১০টি গোলাম আযাদ করার সমান ছওয়াব পাবে। আর তার নামে লেখা হবে ১০০টি নেকী এবং তার নাম থেকে ১০০ টি গোনাহ মুছে ফেলা হবে’। (বুখারী হা/৬৪০৩; মুসলিম, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/১৪১০)।
(ঙ) মজলিস শেষে আল্লাহর যিকির :
আবু হুরাইরা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন মজলিসে বসে এবং তাতে যদি অনেক বেশী অপ্রয়োজনীয় ও বাজে কথা বলা হয়ে থাকে, তাহ’লে ওঠার আগে সে যেন বলে,
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَـمْدِكَ أَشْـهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ اَسْتَـغْفِرُكَوَأَتُوْبُ إِلَيْكَ، إِلاَ غُـفِرَ لَهُ مَا كَانَ فِيْ مَجْلِسِهِ ذَلِكَ.
‘হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র, প্রশংসা তোমারই জন্য আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, আমি তোমার কাছে মাগফিরাত কামনা করছি এবং তোমার নিকটে তওবা করছি। ফলে ঐ মজলিসে যা কিছু করা হয়েছিল সব ত্রুটি-বিচ্যুতিমাফ করে দেওয়া হবে’।( তিরমিযী, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/৮৩২; মিশকাত হা/২৪৩৩, হাদীছ ছহীহ)।

Advertisements
Categories: Uncategorized | Leave a comment

Post navigation

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Create a free website or blog at WordPress.com.

%d bloggers like this: