দ্বিধা-দ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে আল্লাহর এবাদত করা

ইমাম আবদুর রহমান ইবন হাসান (রহ) কয়েকজন সাহাবা যেমনঃ বিলাল (রাঃ),আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রাঃ) ও অন্যান্যরা যেসকল অত্যাচারের সম্মূখীন হয়েছিলেন,সে ঘটনাগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ “সুতরাং এই ছিলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের (রাঃ) অবস্থা। তাঁদেরকে কাফের-মুশরিকরা এমনভাবেই অত্যাচার করতো।তাহলে এই সাহাবাদের তুলনায় ওদের কি অবস্থা যারা সামান্য পরীক্ষা (ফিতনা) আসলেই বাতিলের দিকে ছুটে যায়,বাতিলকেই আঁকড়ে ধরে এবং সত্যকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে- কাফেরদের প্রতি ভালবাসা দেখায়,তাদের প্রশংসা করে এবং তাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে!?আসলে এরা তাদের মত যাদের ব্যাপারে আল্লাহর বলেছেনঃ
“যদি নগরীর বিভিন্ন দিক থেকে তাদের বিরুদ্ধে শত্রুদের প্রবেশ ঘটে,অতঃপর তাদেরকে বিদ্রোহের (ইসলাম ত্যাগ করার) জন্য প্ররোচিত করা হত,তবে তারা অবশ্যই তা করে বসত,তারা এতে কালবিলম্ব করত না শুধুমাত্র কিছু ব্যতিত”।(সূরা আহযাব ৩৩: ১৪)
*.“মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে আল্লাহর এবাদত করে।যদি সে কল্যাণ প্রাপ্ত হয়, তবে এবাদতের উপর কায়েম থাকে এবং যদি কোন পরীক্ষায় পড়ে, তবে পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়।সে ইহকালে ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত। এটাই প্রকাশ্য ক্ষতি”। [সূরা হজ্জ ১১]
“কতক লোক বলে, আমরা আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি; কিন্তু আল্লাহর পথে যখন তারা নির্যাতিত হয়,তখন তারা মানুষের নির্যাতনকে আল্লাহর আযাবের মত মনে করে।যখন আপনার পালনকর্তার কাছ থেকে কোন সাহায্য আসে তখন তারা বলতে থাকে,আমরা তো তোমাদের সাথেই ছিলাম। বিশ্ববাসীর অন্তরে যা আছে, আল্লাহ কি তা সম্যক অবগত নন”? [সূরা আনকাবুত ১০]
*.“যারা মুমিন, তারা বলেঃ একটি সূরা নাযিল হয় না কেন? অতঃপর যখন কোন দ্ব্যর্থহীন সূরা নাযিল হয় এবং তাতে জেহাদের উল্লেখ করা হয়, তখন যাদের অন্তরে রোগ আছে, আপনি তাদেরকে মৃত্যুভয়ে মূর্ছাপ্রাপ্ত মানুষের মত আপনার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখবেন। সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্যে”।[সূরা মুহাম্মদ ২০]
“তুমি কি সেসব লোককে দেখনি, যাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তোমরা নিজেদের হাতকে সংযত রাখ, নামায কায়েম কর এবং যাকাত দিতে থাক? অতঃপর যখন তাদের প্রতি জেহাদের নির্দেশ দেয়া হল, তৎক্ষণাৎ তাদের মধ্যে একদল লোক মানুষকে ভয় করতে আরম্ভ করল, যেমন করে ভয় করা হয় আল্লাহকে। এমন কি তার চেয়েও অধিক ভয়। আর বলতে লাগল, হায় পালনকর্তা, কেন আমাদের উপর যুদ্ধ ফরজ করলে! আমাদেরকে কেন আরও কিছুকাল অবকাশ দান করলে না। ( হে রসূল) তাদেরকে বলে দিন, পার্থিব ফায়দা সীমিত। আর আখেরাত পরহেযগারদের জন্য উত্তম। আর তোমাদের অধিকার একটি সূতা পরিমান ও খর্ব করা হবে না”। [ সূরা নিসা ৭৭]
আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদেরকে ইসলামের উপর দৃঢ় রাখেন এবং আমরা প্রকাশ্য ও গোপন সব ফিতনা থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় চাই। এটা স্পষ্ট যে যারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর প্রতি যা নাযিল হয়েছিল,তাতে ঈমান এনেছিল। তারা যদি র্শিক এবং মুশরিকদের প্রতি বারাআহ (সম্পর্কচ্ছেদ) ঘোষণা না করতেন,বা তাদের ধর্ম ও উপাস্যদের ব্যঙ্গ না করতেন – তাহলে কিতাদেরকে এমন অত্যাচার ও কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হতো ?”[৯আদ্-দুরুর আস-সানিয়্যাহ, (৮/১২৪),অধ্যয়- জিহাদ]
আসহাবুল কাহাফ ও আসহাবুল উখদূদ
সুতরাং যারা বাতিলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে,তাওহীদ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে,এবং যাদের উপর অত্যাচার ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে,অথচ যাদের হিজরত করার মতো কোন জায়গা নেই- তাদের জন্য উত্তম উদাহরণ আছে ঐ গুহার যুবকদের (আসহাবুল কাহাফ) মাঝে যারা তাদের পরিবার-পরিজন ছেড়ে এক দূরের পাহাড়ে গুহার ভেতরে বসবাস করতে গিয়েছিল এবং আরো উদাহরণ আছে গর্তের মানুষদের (আসহাবুল উখ্দূদ) মাঝে যাদেরকে তাদের আক্বীদাহ ও তাওহীদের জন্য পুড়িয়ে মারা হয়েছিল অথচ তারপরও তারা কোন ছাড় দেয়নি বা ইতস্ততঃ করেনি;আর আরো উদাহরণ আছে রাসূলূল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের মাঝে যারা হিজরত করেছেন,জিহাদ করেছেন,মেরেছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন।
আল্লাহ (সুব) বলেনঃ“এমনি ভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু করেছিলাম।”(সূরা ফুরকান ২৫: ৩১)
“অবশ্যই ইব্রাহীম এবং তাঁর অনুসারীদের মধ্যে তাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ,যারা আল্লাহ এবং আখিরাতে ঈমান রাখে।”(সূরা মুমতাহিনা ৬০: ৬)
আর এই পথের শেষে নিশ্চিতভাবেই আছে আল ফাউযুল কাবির (মহান সফলতা)।
*.“কাফেররা তাদের রাসূলদের বলেছিল,‘আমরা তোমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে অবশ্যই বহিষ্কৃত করব অথবা তোমাদেরকে আমাদের ধর্মাদর্শে ফিরে আসতে হবে।’অতপরঃ রাসূলগণকে তাদের রব ওহী প্রেরণ করলেন,যালেমদেরকে আমি অবশ্যই বিনাশ করব। ওদের পরে আমি তোমাদেরকে দেশে প্রতিষ্ঠিত করবইঃ- ইহা তাদের জন্য যারা ভয় রাখে আমার সম্বুখে উপস্থিত হওয়ার এবং ভয় রাখে আমার শাস্তির”।(সূরা ইব্রাহীম ১৪: ১৩-১৪)
‘তারা বলল,এর জন্য এক ইমারত নির্মাণ কর,অতঃপর তাকে জ্বলন্ত অগ্নিতে নিক্ষেপ কর। ওরা তাঁর বিরুদ্ধে বিরাট চক্রান্তের সংকল্পকরেছিল;কিন্তু আমি ওদেরকে অতিশয় হেয় করে দিলাম। সে বলল,‘আমি আমার রবের দিকে চললাম,তিনি আমাকে অবশ্যই সৎপথে পরিচালিত করবেন”।(সূরা সাফফাত ৩৭: ৯৭-৯৯)
*.“তোমরা কি মনে কর যে,তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে,যদিও এখনও তোমাদের নিকট তোমাদের পূর্ববর্তীদের অবস্থা আসে নাই?অর্থ-সংকট ও দুঃখ-কষ্ট তাদেরকে ষ্পর্শ করেছিল এবং তারা ভীত ও কম্পিত হয়েছিল। এমন কি রাসূল এবং তাঁর সাথে ঈমান আনয়নকারিগণ বলে উঠেছিল, ‘আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে?’জেনে রাখ,অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য নিকটে।” (সূরা বাকারা ২: ২১৪)
বর্তমানে আমরা ঠিক এটাই দেখতে পাই। আমাদের যেসকল আলেমগণ যারা তাগুতের মাথার উপর তাওহীদের পাতাকাকে তুলে ধরছেন,তারা ইউসুফ আলাইহি সালাম এর কথাকেই প্রমাণ করছেনঃ“হে আমার রব! তারা আমাকে যার প্রতি আহবান করছে তা অপেক্ষা কারাগার আমার নিকট বেশী প্রিয়।”(সূরা ইউসুফ ১২: ৩৩)
এটি সত্যিই যে,তখাকথিত‘স্বাধীনতা’,‘জাতীয়তাবাদ’,‘মানবরচিত আইন’এবং কাফিরদের সাথে মেলামেশার চাইতে কারগার,অত্যাচার আর শাহাদাত মুমিনদের কাছে অনেক প্রিয়।
আর যারা এই পথে চলবে তারা বলতে থাকবেঃ
“হে আমার সম্প্রদায়!
কি আশ্চর্য! আমি তোমাদেরকে আহবান করছি মুক্তির দিকে,আর তোমারা আমাকে ডাকছো অগ্নির দিকে!
তোমরা আমাকে বলছ,আল্লাহকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাতে,যার সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান নাই;পক্ষান্তরে আমি তোমাদেরকে আহবান করছি পরক্রমশালী,ক্ষমাশীল আল্লাহর দিকে।
নিসন্দেহে তোমরা আমাকে আহবান করছ এমন একজনের দিকে যে দুনিয়া ও আখেরাতে কোথাও আহবান যোগ্য নয়।
বস্তুতঃ আমাদের প্রত্যাবর্তন তো আল্লাহরই নিকট এবং সীমালঙ্ঘনকারীরাই জাহান্নামের অধিবাসী। আমি তোমাদেরকে যা বলছি,তোমারা তা অচিরেই স্মরণ করবে এবং আমি আমার ব্যাপার আল্লাহর কাছে অর্পণ করছি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সবিশেষ দৃষ্টি রাখেন।”(সূরা গাফির ৪০: ৪১-৪৫)
“তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধ চিত্তে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে এবং সালাত কায়েম করতে ও যাকাত দিতে,ইহাই সঠিক দ্বীন”।(সূরা বায়্যিনাত ৯৮: ৫)
যারা হুনাফা হতে চায় তাদের জন্য আল্লাহ স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেনঃ
“তোমাদের জন্য ইব্রাহীম ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল,‘তোমাদের সঙ্গে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত কর তাদের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই। আমরা তোমাদেরকে মানি না। তোমাদের ও আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হলো শত্রুতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য;যদি না তোমরা এক আল্লাহ্তে ঈমান আন”।(সূরা মুমতাহিনা ৬০: ৪)
সুতরাং মুওয়াহিদরা তাগুতের হাতে যে ব্যবহার পেয়েছেন এবং যে হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন,আমাদেরকেও তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবেঃ
“[ফিরআউন] বলল,‘কী ! আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়ার পূর্বেই তোমরা তার (মুসা) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিলে! নিশ্চয়ই,সে তো তোমাদের প্রধান,সে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়েছে। সুতরাং আমি তো তোমাদের হস্তপদ বিপরীত দিক হতে কর্তন করবই এবং আমি তোমাদেরকে খর্জুর বৃক্ষের কান্ডে শুলবিদ্ধ করবই এবং তোমরা অবশ্যই জানতে পারবে আমাদের মধ্যে কার শাস্তি কঠোরতর ও অধিক স্থায়ী।”(সূরা ত্বা-হা ২০: ৭১)
সুতরাং এর জবাবে পূর্ববর্তীদের মতো আমাদেরও বলতে হবে-
“কোন ক্ষতি নাই,আমরা আমাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তন করব।” (সূরা শুয়ারা ২৬: ৫০)
এবং – হে হানিফ,তুমি প্রস্তুত থাকো সেই উত্তর দেওয়ার জন্য যা পূর্ববর্তী মুয়াহীদগণ দিয়েছেনঃ
“তারা বলল,আমাদের নিকট যে স্পষ্ট নিদর্শন এসেছে তার উপর এবং যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর উপর তোমাকে আমরা কিছুতেই প্রাধান্য দিব না। সুতরাং তুমি কর যা তুমি করতে চাও। তুমি তো কেবল এই পার্থিব জীবনের উপর কর্তৃত্ব করতে পার”।(সূরা ত্বাহা ২০: ৭২-৭৩)
*.এবং এই দুই দলের (তাওহীদের দল আর তাগুতের দল) ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেনঃ
“যে তার রবের নিকট অপরাধী হয়ে উপস্থিত হবে তার জন্য তো আছে জাহান্নাম,সেথায় সে মরবেও না,বাঁচবেও না। এবং যারা তাঁর নিকট উপস্থিত হবে মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করে,তাদের জন্য আছে সমুচ্চ মর্যাদা। স্থায়ী জান্নাত,যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত,সেথায় তারা চিরস্থায়ী হবে এবং এই পুরস্কার তাদেরই,যারা নিজেদের পরিশুদ্ধ করেছে”।(সূরা ত্বা-হা ২০: ৭৪-৭৬)
এবং যারা এই দ্বীনকে অস্বীকার করে তাদের প্রতি এই ঘোষণা করতে আল্লাহ আমাদের আদেশ করছেন-
“বল,আমাদের জন্য আল্লাহ যা নির্দিষ্ট করেছেন তা ব্যতীত আমাদের অন্য কিছু হবে না;তিনি আমাদের কর্মবিধায়ক এবং আল্লাহর উপরই মুমিনদের নির্ভর করা উচিত। বল,তোমরা আমাদের দুইটি মঙ্গলের (শাহাদাত বা বিজয়) একটির প্রতিক্ষা করছো এবং আমরা প্রতিক্ষা করছি যে,আল্লাহ তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন সরাসরি নিজ থেকে অথবা আমাদের হাত দ্বারা। অতএব তোমরা প্রতিক্ষা কর,আমরাও তোমাদের সাথে প্রতিক্ষা করছি”।(সূরা তওবাহ ৯: ৫১-৫২)
এই হলো মিল্লাতে ইব্রাহীম – কে আছে যারা এই পথে চলতে আগ্রহী?
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “আমার উম্মতের মাঝে সবসময়ই একটি দল থাববে যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং শত্রুকেপরাস্ত করতে থাকবে। তাদের বিরোধিতাকারীরা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের কোন ক্ষতিই করতে পারবে না।”(সহীহ মুসলিম) সুতরাং,“ইবরাহীমের উপর শান্তি বর্ষিত হউক।”(সূরা সাফফাত ৩৭: ১০৯)
হে আল্লাহ! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবারের উপর শান্তি ও রহমত দান করুন,যেভাবে আপনি ইব্রাহীম আলাইহি সালাম ও তাঁর পরিবারের উপর দান করেছিলেন। আমিন।
মূলঃ মিল্লাতে ইবরাহীম ও বাধাবিপত্তি
প্রচারঃ মারকাজুল উলুম আল ইসলামিয়া
সম্পাদনাঃ সরল পথ

Advertisements
Categories: Uncategorized | Leave a comment

Post navigation

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Create a free website or blog at WordPress.com.

%d bloggers like this: