ঃঃঃঃকেয়ামতের ভয়াবহতা ও তারপর ঃঃ ৩য় পর্ব ঃঃঃ

কবরের আজাব সম্পর্কে ইমামদের বক্তব্য :  
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন: সালাফে সালেহীন ইমামদের মতামত হল, যখন কোন ব্যক্তি মারা যায় তখন সে সূখে থাকে অথবা শাস্তি ভোগ করতে থাকে। আর এ সূখ বা শাস্তি তার আত্মা ও দেহ উভয়ে ভোগ করে থাকে। কখনো আত্মা দেহে আসে। তখন দেহ ও আত্মা উভয়ে একসাথে সুখ বা শাস্তি ভোগ করে। অত:পর কেয়ামতের দিন আত্মা শরীরের সাথে একত্র হয়ে কবর থেকে উত্থিত হবে। (মজমু আল ফাতাওয়া)
ইমাম নববী রহ. বলেন: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারীরা বিশ্বাস করেন যে কবরের শাস্তি একটি সত্য বিষয়। আর এ বিষয়ে কুরআন ও হাদীসের বহু সংখ্যক প্রমাণ রয়েছে। যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا
আগুন, তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যায় তার সামনে উপস্থিত করা হয়।
এ বিষয়ে যথেষ্ঠ পরিমাণে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আর আকল-বুদ্ধি এটাকে অসম্ভব মনে করে না। যদি কারো আকল বা জ্ঞান এটাকে অসম্ভব মনে করে তবে তাকে বুঝতে হবে, এ বিষয়ে যখন কুরআন ও হাদীসের সিদ্ধান্ত এসে গেছে তখন এটা মান্য করা অবশ্য কর্তব্য। এটা আমাদের জ্ঞানের পরিধির ভিতরে হোক বা বাহিরে, তাতে কিছু আসে যায় না।
আসল কথা হল, কবরের শাস্তির বিশ্বাসটি আহলে সুন্নাতের আকীদা-বিশ্বাসের অন্তর্গত।
খারেজী, অধিকাংশ মুতাযিলা ও মুরজিয়াদের একটি দল কবরের শাস্তির বিষয়টি অস্বীকার করে।
তিনি আরো বলেন: যদি মৃত ব্যক্তির শরীর ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বা পুড়ে ছাই হয়ে যায় কিংবা কোন জীব-জন্তুর পেটে চলে যায় তাহলেও কবরের শাস্তি ভোগ করা সম্ভব।
যদি বলা হয়, আমরা দেখি  মৃত ব্যক্তিকে কবরে যেভাবে রাখা হয়েছে সেভাবেই আছে। কখন তাকে বসানো হল আর কিভাবে তাকে শাস্তি দেয়া হল?
এর উত্তরে বলা যায়, আমরা অনুভব না করলেও এটা ঘটা সম্ভব। যেমন আমাদের পাশে কোন ব্যক্তি নিদ্রায় থাকে আর সে স্বপ্নে কত খারাপ অবস্থা ভোগ করতে থাকে বা কত সুখ ভোগ করতে থাকে। অথচ আমরা তার পাশে থেকেও তার কোন কষ্ট বা সুখ অনুভব করি না বা দেখি না।
এমনিভাবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে জিবরীল অহী নিয়ে আসতো। আর রাসূল কষ্ট করে সে অহী ধারন করতেন কিন্তু পাশে উপস্থিত সাহাবীগণ তা টের পেতেন না। (শরহু মুসলিম)
 
দ্বিতীয় অধ্যায়:
কেয়ামত সংঘটন
যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্ধারিত সময় চলে আসবে তখন কেয়ামত সংঘটিত হবে। তিনি কেয়ামত সংঘটনের দায়িত্বশীল ফেরেশতাকে শিংগায় ফুৎকার দিতে নির্দেশ দিবেন। সে একটি ফুৎকার দেবে। ফলে যমীন ও পর্বতমালা সরিয়ে নেয়া হবে। এক আঘাতে সব চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। আর আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে। গ্রহ-নক্ষত্র খসে পড়বে। আলো চলে যাবে। সমুদ্রগুলো অগ্নিউত্তাল হয়ে যাবে। দুষ্ট মানুষগুলো তখন মরে যাবে। কেয়ামত যখন কায়েম হবে তখন পৃথিবীতে শুধু খারাপ মানুষের বসবাস থাকবে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيمٌ ﴿1﴾ يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ ﴿2﴾ (سورة الحج)
হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। নিশ্চয় কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা দেখবে সেদিন প্রত্যেক স্তন্য দানকারিনী আপন দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভধারিণী তার গর্ভপাত করে ফেলবে, তুমি দেখবে মানুষকে মাতাল সদৃশ, অথচ তারা মাতাল নয়। তবে আল্লাহর আযাবই কঠিন। (সূরা হজ, আয়াত ১-২
فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَاحِدَةٌ ﴿13﴾ وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً ﴿14﴾ فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ ﴿15﴾ وَانْشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ ﴿16﴾ وَالْمَلَكُ عَلَى أَرْجَائِهَا وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ ﴿17﴾ يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ ﴿18﴾ (سورة الحاقة).
অতঃপর যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে- একটি মাত্র ফুঁক। আর যমীন ও পর্বতমালাকে সরিয়ে নেয়া হবে এবং মাত্র একটি আঘাতে এগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। ফলে সে দিন মহাঘটনা সংঘটিত হবে। আর আসমান বিদীর্ণ হয়ে যাবে। ফলে সেদিন তা হয়ে যাবে দুর্বল বিক্ষিপ্ত। ফেরেশতাগণ আসমানের বিভিন্ন প্রান্তে থাকবে। সেদিন তোমার রবের আরশকে আটজন ফেরেশতা তাদের উর্ধ্বে বহন করবে। সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন গোপনীয়তাই গোপন থাকবে না। (সূরা আল হাক্কাহ, আয়াত ১৩-১৮)
إِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ ﴿1﴾ وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انْتَثَرَتْ ﴿2﴾ وَإِذَا الْبِحَارُ فُجِّرَتْ ﴿3﴾ وَإِذَا الْقُبُورُ بُعْثِرَتْ ﴿4﴾ عَلِمَتْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ وَأَخَّرَتْ ﴿5﴾ (سورة الانفطار)
যখন আসমান বিদীর্ণ হবে। আর যখন নক্ষত্রগুলো ঝরে পড়বে। আর যখন সমুদ্রগুলোকে একাকার করা হবে। আর যখন কবরগুলো উন্মোচিত হবে। তখন প্রত্যেকে জানতে পারবে, সে যা আগে পাঠিয়েছে এবং যা পিছনে রেখে গেছে। (সূরা ইনফিতার, আয়াত ১-৫)
إِنَّمَا تُوعَدُونَ لَوَاقِعٌ ﴿7﴾ فَإِذَا النُّجُومُ طُمِسَتْ ﴿8﴾ وَإِذَا السَّمَاءُ فُرِجَتْ ﴿9﴾ وَإِذَا الْجِبَالُ نُسِفَتْ ﴿10﴾ وَإِذَا الرُّسُلُ أُقِّتَتْ ﴿11﴾ لِأَيِّ يَوْمٍ أُجِّلَتْ ﴿12﴾ لِيَوْمِ الْفَصْلِ ﴿13﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا يَوْمُ الْفَصْلِ ﴿14﴾ وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ ﴿15﴾ (سورة المرسلات)
তোমাদেরকে যা কিছুর ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই ঘটবে। যখন তারকারাজি আলোহীন হবে, আর আকাশ বিদীর্ণ হবে, আর যখন পাহাড়গুলি চূর্ণবিচূর্ণ হবে, আর যখন রাসূলদেরকে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত করা হবে; কান দিনের জন্য এসব স্থগিত করা হয়েছিল? বিচার দিনের জন্য। আর কিসে তোমাকে জানাবে বিচার দিবস কি? মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ! (সূরা আল মুরসালাত, আয়াত ৭-১৫)
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْجِبَالِ فَقُلْ يَنْسِفُهَا رَبِّي نَسْفًا ﴿105﴾ فَيَذَرُهَا قَاعًا صَفْصَفًا ﴿106﴾ لَا تَرَى فِيهَا عِوَجًا وَلَا أَمْتًا ﴿107﴾ يَوْمَئِذٍ يَتَّبِعُونَ الدَّاعِيَ لَا عِوَجَ لَهُ وَخَشَعَتِ الْأَصْوَاتُ لِلرَّحْمَنِ فَلَا تَسْمَعُ إِلَّا هَمْسًا ﴿108﴾ (سورة طه)
আর তারা তোমাকে পাহাড় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, আমার রব এগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন, তারপর তিনি তাকে মসৃণ সমতলভূমি করে দিবেন তাতে তুমি কোন বক্রতা ও উচ্চতা দেখবে না। সদিন তারা আহ্বানকারীর (ফেরেশতার) অনুসরণ করবে। এর কোন এদিক সেদিক হবে না এবং পরম করুণাময়ের সামনে সকল আওয়াজ নিচু হয়ে যাবে। তাই মৃদু আওয়াজ ছাড়া তুমি কিছুই শুনতে পাবে না। (সূরা ত্বা-হা, আয়াত ১০৫-১০৮)
يَوْمَ تَرْجُفُ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ وَكَانَتِ الْجِبَالُ كَثِيبًا مَهِيلًا. (سورة المزّمّل: 14)
যেদিন যমীন ও পর্বতমালা প্রকম্পিত হবে এবং পাহাড়গুলো চলমান বালুকারাশিতে পরিণত হবে। (সূরা মুযযাম্মমিল, আয়াত ১৪)
وَيَوْمَ نُسَيِّرُ الْجِبَالَ وَتَرَى الْأَرْضَ بَارِزَةً وَحَشَرْنَاهُمْ فَلَمْ نُغَادِرْ مِنْهُمْ أَحَدًا ﴿47﴾ وَعُرِضُوا عَلَى رَبِّكَ صَفًّا لَقَدْ جِئْتُمُونَا كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ بَلْ زَعَمْتُمْ أَلَّنْ نَجْعَلَ لَكُمْ مَوْعِدًا ﴿48﴾ وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا ﴿49﴾ (سورة الأحقاف)
আর যেদিন আমি পাহাড়কে চলমান করব এবং তুমি যমীনকে দেখতে পাবে দৃশ্যমান, আর আমি তাদেরকে একত্র করব। অতঃপর তাদের কাউকেই ছাড়ব না। আর তাদেরকে তোমার রবের সামনে উপস্থিত করা হবে কাতারবদ্ধ করে। (আল্লাহ তাআলা বলবেন) তোমরা আমার কাছে এসেছ তেমনভাবে, যেমন আমি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম; বরং তোমরা তো ভেবেছিলে আমি তোমাদের জন্য কোন প্রতিশ্রুত মুহূর্ত রাখিনি। আর আমলনামা রাখা হবে। তখন তুমি অপরাধীদেরকে দেখতে পাবে ভীত, তাতে যা রয়েছে তার কারণে। আর তারা বলবে, হায় ধ্বংস আমাদের! কী হল এ কিতাবের! তা ছোট-বড় কিছুই ছাড়ে না, শুধু সংরক্ষণ করে এবং তারা যা করেছে, তা হাজির পাবে। আর তোমার রব কারো প্রতি যুলম করেন না। (সূরা আল কাহাফ, আয়াত ৪৭-৪৯)
হাদীসে এসেছে
عن عبدالله بن عمرو قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم”يخرج الدجال في أمتي فيمكث أربعين (لا أدري : أربعين يوما ، أو أربعين شهرا، أو أربعين عاما‍) . فيبعث الله عيسى بن مريم كأنه عروة بن مسعود . فيطلبه فيهلكه . ثم يمكث الناس سبع سنين . ليس بين اثنين عداوة . ثم يرسل الله ريحا باردة من قبل الشأم . فلا يبقى على وجه الأرض أحد في قلبه مثقال ذرة من خير أو إيمان إلا قبضته . حتى لو أن أحدكم دخل في كبد جبل لدخلته عليه ، حتى تقبضه”. قال : سمعتها من رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال”فيبقى شرار الناس في خفة الطير وأحلام السباع . لا يعرفون معروفا ولا ينكرون منكرا . فيتمثل لهم الشيطان فيقول : ألا تستجيبون ؟ فيقولون : فما تأمرنا ؟ فيأمرهم بعبادة الأوثان . وهم في ذلك دار رزقهم ، حسن عيشهم . ثم ينفخ في الصور . ثم يرسل الله – أو قال ينزل الله – مطرا كأنه الطل أو الظل ( نعمان الشاك ) فتنبت منه أجساد الناس . ثم ينفخ فيه أخرى فإذا هم قيام ينظرون . ثم يقال : يا أيها الناس ! هلم إلى ربكم . وقفوهم إنهم مسؤلون . قال ثم يقال : أخرجوا بعث النار . فيقال : من كم ؟ فيقال : من كل ألف ، تسعمائة وتسعة وتسعين . قال فذاك يوم يجعل الولدان شيبا . وذلك يوم يكشف عن ساق”.
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে দাজ্জালের আভির্ভাব হবে। সে চল্লিশ-আমি জানি না চল্লিশ দিবস, না মাস, না বছর-অবস্থান করবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম কে পাঠাবেন। তাকে দেখতে উরওয়া ইবনে মাসউদের মত মনে হবে। তিনি দাজ্জাল-কে খোজ করবেন ও হত্যা করবেন। এরপর মানুষ সাত বছর এমনভাবে কাটাবে যে দুজন মানুষের মধ্যে কোন শত্রুতা থাকবে না। এরপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন উত্তর দিক থেকে হিমেল বায়ু প্রেরণ করবেন। যাদের অন্তরে অনু পরিমাণ ঈমান রয়েছে তারা সকলে এতে মৃত্যু বরণ করবে। ঈমানদার ও ভাল মানুষের কেহ বেঁচে থাকবে না। যদি তোমাদের কেহ পাহাড়ের সুরক্ষিত গুহায় প্রবেশ করে তাকেও এ বাতাস পেয়ে বসবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আরো শুনেছি যে, দুরাচারী মানুষগুলো অবশিষ্ট থাকবে পাখির মত দ্রুত আর বাঘের মত হিংস্র। তারা ভালকে ভাল হিসাবে জানবে না আর মন্দ-কে মন্দ মনে করবে না। শয়তান মানুষের আকৃতিতে তাদের কাছে এসে বলবে তোমরা ভাল কাজে সাড়া কেন দাও না? তারা বলবে তুমি আমাদের কী করতে বলো? সে তাদের মুর্তির উপাসনা করতে আদেশ করবে। তারা সুন্দর জীবনোপকরণ নিয়ে জীবন যাপন করবে। অতঃপর একদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে। (তখন সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে) এরপর একদিন প্রচন্ড বৃষ্টি বর্ষিত হবে। এ বৃষ্টির কারণে মানুষের দেহগুলো উদ্ভিদের মত উত্থিত হবে। এরপর আবার শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে তখন মানুষেরা দাড়িয়ে যাবে ও এদিক সেদিক তাকাতে থাকবে। তারপর বলা হবে হে মানব সকল! তোমাদের প্রতিপালকের দিকে আসো। তোমরা দাড়িয়ে যাও, তোমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, জাহান্নামীদের বের করে আনো। জিজ্ঞাসা করা হবে কত জন থেকে কত জন বের করে আনবো? উত্তর দেয়া হবে, প্রত্যেক হাজার থেকে নয় শত নিরানব্বই জনকে বের করে নাও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সেটিই এমন দিন যা শিশুদের বৃদ্ধ করে দেবে। আর এ দিনটিতে আল্লাহ তাআলা নিজ পায়ের গোছা উম্মুক্ত করবেন। (বর্ণনায় : মুসলিম হাদীস নং ২২৫৮)
হাদীসটি থেকে আমরা যা শিখতে পারলাম :
১- কেয়ামতের বড় আলামতের একটি হল দাজ্জালের আভির্ভাব।
২- কেয়ামতের বড় আলামতের একটি হল ঈসা আলাইহিস সালাম এর আগমন।
৩- ঈসা আলাইহিস সালাম দাজ্জালকে শেষ করে দিবেন। এরপর সুখ শান্তির রাজত্ব কায়েম হবে যা সাত বছর স্থায়ী হবে।
৪-রহমতের বায়ু প্রেরণ করে কেয়ামতের পূর্বে আল্লাহ ঈমানদারদের মৃত্যু ঘটাবেন। এটিও কেয়ামতের একটি বড় আলামত।
৫- কেয়ামতের পূর্বক্ষণে পৃথিবীতে কোন ভাল মানুষ থাকবে না। হিংস্র, দুর্বিত্ত, দূরাচার ব্যক্তিদের উপর কেয়ামত সংঘটিত হবে।
৬- কেয়ামতের পূর্বে সর্বত্র শয়তানের তৎপরতায় পৌত্তলিকতা বা মুর্তি পুজার ব্যাপক প্রচলন ঘটবে। তখন মানুষ সচ্ছলতার সাথে সুন্দর জীবনোপকরণসহ জীবন যাপন করবে।
৭- মানুষের উন্নত জীবন-যাপন দেখে বিভ্রান্ত হওয়ার অবকাশ নেই। এটা তাদের সত্যতা, সত্যবাদিতা বা গ্রহণযোগ্যতার আলামত নয়।
৮- প্রথম শিংগায় ফুঁৎকারে পৃথিবীর সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। আর দ্বিতীয় ফুঁৎকারে মানুষ জীবন ফিরে পাবে।
৯- মুষলধারে বৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে পূনর্জীবিত করবেন।
১০- জাহান্নামীদের সংখ্যা অনেক বেশী হবে। প্রতি হাজার মানুষে একজন বাদে সকলে জাহান্নামে যাবে।
১১- আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কেয়ামতের পর নিজের পায়ের গোছা উম্মুক্ত করবেন। যেমন তিনি বলেন:
يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ (سورة القلم:42)
সে দিন পায়ের গোছা উম্মুক্ত করা হবে। আর তাদেকে সিজদা করার জন্য আহবান জানানো হবে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না। (সূরা আল কলম, আয়াত ৪২)
১২- আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পা রয়েছে, তবে তা তাঁর মহান সত্ত্বার জন্য যেমন উপযোগী তেমনই।
…………………………………………।

Advertisements
Categories: Uncategorized | Leave a comment

Post navigation

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Blog at WordPress.com.

%d bloggers like this: