রমজান মাস সম্পর্কিত হাদীস

রমজান মাস সম্পর্কিত হাদীস
مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ وَلَا مَرَضٍ لَمْ يَقْضِهِ صِيَامُ الدَّهْرِ وَإِنْ صَامَهُ . حديث ضعيف .
“যে ব্যক্তি কোন কারণ ছাড়া রমযানের একদিন সওম ভঙ্গ করল অথবা অসুস্থতা ব্যতীত, পুরো বছরেও তার কাযা হবে না, যদিও সে পুরো বছর সওম পালন করে”। হাদিসটি দুর্বল।
ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে হাদিসটি টিকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রমযান অধ্যায়: )৪/১৯৪(, হাদিসটি তিনি দুর্বল ক্রিয়া দ্বারা উল্লেখ করে বলেন: এ হাদিস আবূ হুরায়রা থেকে মারফূ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ইমাম আবূ দাউদ: )২৩৯৬(, তিরমিযি: )৭২৩(, ইবনু মাজাহ: )১৬৭২(, ইবনু খুযাইমাহ: )৩/২৩৮(, হাদিস নং: )১৯৮৮(, আহমদ: )২/৩৭৬( প্রমুখগণ সাওরি ও শুবা থেকে, তারা উভয়ে হাবিব ইবনু আবি সাবেত থেকে, সে উমারা ইবনু উমাইর থেকে, সে আবূল মিতওয়াস থেকে, সে তার পিতা থেকে, সে আবূ হুরায়রা থেকে মুত্তাসিল সনদে উল্লেখ করেছেন।
তিরমিযি বলেন: এ সনদ ব্যতীত অন্য কোনভাবে আবূ হুরায়রার হাদিস জানতে পারেনি, আমি মুহাম্মদ )অর্থাৎ বুখারী( কে বলতে শুনেছি: আবূল মিতওয়াসের নাম ইয়াজিদ ইবনু মিতওয়াস, এ হাদিস ব্যতীত তার সনদে বর্ণিত অন্য কোন হাদিস সম্পর্কে জানি না।
ইবনু খুযাইমাহ তার সহিহ: )৩/২৩৮(, গ্রন্থে হাদিস নং: )১৯৮৮(-তে বলেন: যদি হাদিসটি সহিহ হয়, তবুও আমি ইবনু মিতওয়াস ও তার পিতার পরিচয় জানি না।
ইবনু আব্দুল বার “তামহিদ”: )৭/১৭৩( গ্রন্থে বলেন: এ হাদিস দুর্বল, এ ধরণের হাদিস দ্বারা দলিল দেয়া যায় না।
আবূল মিতওয়াস সম্পর্কে তিনটি বক্তব্য পাওয়া যায়: আবূল মিতওয়াস, ইব্নুল মিতওয়াস ও মিতওয়াস, সে একা এ হাদিস বর্ণনা করেছে। ইবনু হিব্বান বলেছেন: তার একার বর্ণনাকৃত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা জায়েজ হবে না।
হাফেজ ইবনু হাজার “তাগলিক”: )৩/১৭১( ও “ফাতহুল বারি”: )৪/১৯১( গ্রন্থে বলেন: বুখারি তার “তারিখে” বলেছেন: আবূল মিতওয়াস একা এ হাদিস বর্ণনা করেছে, তার পিতা আবূ হুরায়রা থেকে শুনেছে কি-না বলতে পারি না।
আমার বক্তব্য, )অর্থাৎ ইবনু হাজার(: এ হাদিসের আরেক বর্ণনাকারী হাবিব ইবনু আবি সাবেত )সাওরি ও শুবার উস্তাদ( সম্পর্কেও বিতর্ক রয়েছে, অতএব এ হাদিসে তিনটি দোষ বিদ্যমান: ইজতেরাব, আবূল মিতওয়াস সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং তার পিতার আবূ হুরায়রা থেকে শ্রবণ করার ব্যাপারে সন্দেহ। ইমাম বুখারির নিকট হাদিস শুদ্ধ হওয়ার জন্য তৃতীয় শর্তটি জরুরী।
আলবানি “তামামুল মিন্নাহ”: )পৃ.৩৯৬( গ্রন্থে বলেন: এ হাদিস দুর্বল, এ দুর্বলতার দিকে ঈঙ্গিত করে ইমাম বুখারি ويذكر বলেছেন। ইবনু খুযাইমাহ তার সহিহ গ্রন্থে এ হাদিস দুর্বল বলেছেন। ইমাম মুনাভির বর্ণনা মতে মুনযিরি, বগভি, কুরতুবি, যাহাবি ও দিমাইরি প্রমুখগণ হাদিসটি দুর্বল বলেছেন।
আলবানি তার “দায়িফাহ”: )২/২৮৩( গ্রন্থে বলেন: আবূল মিতওয়াস অপরিচিত বলে বুখারি প্রমুখগণ হাদিসটি দুর্বল বলেছেন।
হাদিস বিশারদদের উক্ত মতামত থেকে প্রমাণিত হয় যে, হাদিসটি দুর্বল, বরং অনেক আলেম বলেছেন: রমযানের দিনে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ইফতার করবে, সে তার বদলে একদিন কাযা করবে। এ হাদিসের ভিত্তিতে কেউ বলেননি রমযানের এক সওমের পরিবর্তে পুরো বছর সওম পালন করলেও আদায় হবে না, একমাত্র ইবনু মাসউদ ব্যতীত, যেমন বুখারি বলেছেন আবূ হুরায়রা বাদে শুধু ইবনু মাসউদ এ কথা বলেছেন।
ইমাম বুখারি তাদেরও উল্লেখ করেছেন, যারা বলে যে রমযানের এক সওমের পরিবর্তে এক দিন সওম পালন করবে। তিনি বলেন: সায়িদ ইব্নুল মুসাইয়িব, শা’বি, ইবনু জুবাইর, ইবরাহিম, কাতাদাহ ও হাম্মাদ বলেছেন: তার পরিবর্তে এক দিন কাযা করবে।
ইমাম বুখারি যাদের কথা উল্লেখ করেছেন, তাদের বিস্তারিত সনদ যারা বর্ণনা করেছে, হাফেজ ইবনু হাজার তাদের সব সনদ উল্লেখ করেছেন। তাদের প্রত্যেকের প্রায় অভিন্ন অভিমত যে, ইস্তেগফারসহ একদিনের পরিবর্তে এক দিন সওম কাযা করবে। বরং ইমাম বগভি “শারহুস সুন্নাহ”: )৬/২৯০( গ্রন্থে বলেন: আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, তার স্থানে এক দিন কাযা করবে।
আজিম আবাদি “আউনুল মাবুদ”: )৭/২৯( গ্রন্থে বলেন: অধিকাংশ আলেমদের অভিমত হচ্ছে যে, রমযানের এক সওমের পরিবর্তে এক সওম যথেষ্ট, যদিও তার সওম ভঙ্গের দিনগুলো বড় ও কঠিন গরমের হয়, আর কাযা করার দিনগুলো হয় ছোট ও ঠাণ্ডা মৌসুমের।
মাসআলা: যদি কোন সওম পালনকারী রমযানের দিনে শরয়ী কোন কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাস ব্যতীত সওম ভঙ্গ করে, যেমন পানাহার, অথবা ধুমপান, অথবা যৌনাঙ্গ ব্যতীত স্ত্রীর সাথে মেলা-মেশার কারণে বীর্য বের হল, অথবা স্ত্রীকে উপভোগ করার সময় বীর্য বের হল ইত্যাদি। তার উপর কাযা ওয়াজিব। ইমাম আহমদ ও ইমাম শাফীর এক ফতোয়া অনুযায়ী তাকে এক সওমের পরিবর্তে একটি সওম কাযা করতে হবে। কারণ ওযর থাকা সত্বেও আল্লাহ তা‘আলা অসুস্থ ও মুসাফির ব্যক্তির উপর কাযা ওয়াজিব করেছেন, তাই ওযরহীন এর উপর অবশ্যই কাযা ওয়াজিব হবে। অবশিষ্ট দিন তাকে পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে, যেহেতু সে কারণ ছাড়া সওম ভঙ্গ করেছে। তার উপর কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না। ইমাম আবূ হানিফা, মালেক ও ইমাম শাফীর এক ফতোয়া মোতাবেক তার উপর কাযাসহ কাফ্ফারা ওয়াযিব হবে। তবে কেউ যদি দিনের শুরু থেকে সওম না রাখে তার উপর কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না। সওমের কাফ্ফারা সূরা মুজাদালায় বর্ণিত জিহারের কাফ্ফারার অনুরূপ। অর্থাৎ একটি গোলাম আযাদ করা, অথবা লাগাতার ষাটটি সওম পালন করা, অথবা ষাটজন মিসকিনকে খাদ্য প্রদান করা। )দেখুন: সূরা মুজাদালা:৩-৪(

Advertisements
Categories: Uncategorized | Leave a comment

Post navigation

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Blog at WordPress.com.

%d bloggers like this: