মানবরচিত বিধান দ্বারা শাসন/বিচার করার কুফ্ র ও শির্ ক এই বিষয়ে সাহাবাগণ ت কি বলেছেন?

আযহারি উল-ক্বুদাআ’ বইটিতে বর্ণিত আছে যে, মানবরচিত বিধান সম্পর্কে ইব্ ন ‘আব্বাস )রদিঃ( বলেছেন,)৭১(
হাসান ইব্ নআবীআর-রাবী‘আআল-জুরজানীرحمه الله)৭২(থেকেবর্ণিতআছে,তিনিবলেছেন,“আমরা‘আব্দুর্ রযযাকرحمه الله)৭৩(থেকে,তিনিমা’মারرحمه الله)৭৪(থেকে,তিনিইব্ নতাঊসرحمه الله)৭৫(থেকেএবং তিনিতারপিতাথেকেশুনেছেন,যিনিবলেছেন, ‘ইব্ ন‘আব্বাস)রদিঃ(আল্লাহ্ রএইউক্তিসম্পর্কেজিজ্ঞাসিতহয়েছিলেন,
‘আরযারাআল্লাহ্ যানাযিলকরেছেন,তদানুযায়ীবিচারকরেনা,তারাইকাফির)অবিশ্বাসী(।’-সূরা আল-মাইদাহঃ৪৪
তিনি]ইব্ ন‘আব্বাস)রদিঃ([বলেছেন,‘এটাযথেষ্টকুফ্ র।’)৭৬(
সা‘ঈদ ইব্ ন জুবাইর رحمه الله বর্ণনা করেছেন যে, ইব্ ন ‘আব্বাস )রদিঃ( নিরাশভাবে এই আয়াত সম্পর্কে বলেছেন যে,“তোমরাইসর্বোত্তমমানুষযখনযাকিছুতোমাদেরজন্যসুমিষ্টতাক্বুরআন-এথাকে।আরযাকিছুরূঢ়,কঠোরওটক্ তাকিতাবীদেরজন্যথাকে)বর্ণনাকারীবলেছেন, ‘ঠিকযেনতিনিদেখতেপাচ্ছেন)৭৭(যে,৩টিআয়াতমুসলিমদেরজন্যওপ্রযোজ্য’(।”)৭৮(আরোও বর্ণিত আছে যে, ইব্ ন ‘আব্বাস )রদিঃ( বলেছেন যে,“তোমরাইসর্বোত্তমমানুষযদিযাকিছুক্বুরআন-এসুমিষ্ট,তাতোমাদেরজন্যথাকে।”তারপরতিনিযোগকরলেন,“যেকেউআল্লাহ্ রআইন/শাসন/বিচারপরিত্যাগ/বাতিল)জাহিদান(করে,এবংএরপরসেএকজনকাফির।”
ইব্ ন ‘আব্বাস )রদিঃ( যা বলেছেন, তা ছাড়াও আরোও একজন সাহাবী, ‘আব্দুল্লাহ ইব্ ন মাস‘ঊদ )রদিঃ()৭৯(, এই আয়াত সম্পর্কে বলেছেন, যখন তিনি কিছু মানুষের দ্বারা জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন যে, রেশওয়া )একটি ঘুষ( কি? তিনি জবাব দিয়েছিলেন,“এটাসুহ্ ত)অবৈধউপায়েঅর্জিতসম্পদ(।”তখন তারা বলল,“না,আমরাবিচারএবংশাসনেরক্ষেত্রেবোঝাতেচাইছি।”তিনি বললেন,
“ এটাইহলঅতি/অত্যন্ত/ভারী/খুবকুফ্ র।”)৮০(
এ সকল তথ্য ছাড়াও, আমাদের সাহাবা )রদিঃ(-এর শাসন/বিচার সম্পর্কিত ইজমা’ সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিৎ যা নিম্নে উল্লেখ করা হয়েছে,
প্রখ্যাত সাহাবী, জাবির ইব্ ন ‘আব্দুল্লাহ )রদিঃ( বলেছেন,
“ আল্লাহ্ ররসূলﷺআমাদেরকেআদেশকরেছেনএটাদিয়েআঘাতকরতে)এবংতিনিতারতরবারীরদিকেনির্দেশকরলেন(যেকেউসেটারবাহিরেচলেযায়)এবংতিনিক্বুরআন-এরদিকেনির্দেশকরলেন(।”)৮১()৮২(
তাদের সম্পর্কে ঠিক এটাই আহ্ ল উস্ -সুন্নাহ ওয়াল-জামা‘আহ্ বলেছে, যারা আল্লাহ্ সুবহানাহু তা‘য়ালা যা নাযিল করেছেন তা ব্যতীত শাসন করে, শারী‘য়াহ পরিবর্তন করে বা আইন প্রণয়ন করে। এটাবড়কুফ্ র)কুফ্ রআল-আকবার(।যদি তারাকিছুক্ষেত্রবিশেষে তা প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়, তা কুফ্ র যা কুফ্ র অপেক্ষা ছোট )কুফ্ র আল-আসগার( হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। অন্যভাবে আমরা এটাকে বলতে পারি যে, সেটা একটি ছোট কুফ্ র।
এর কারণ হল, আহ্ ল উস্ -সুন্নাহ্ ওয়াল-জামা‘আহ্ -এর নিয়ম হল একটি বিচার নিবেদন করার পূর্বে সে সংশ্লিষ্ট সকল আয়াতসমূহকে ব্যবহার করা, যেখানে বিদ‘ঈ মানুষেরা শুধুমাত্র সে সকল আয়াতসমূহকে ব্যবহার করে, যেগুলো তাদের পছন্দসই হয় এবং না বুঝেই বিচার করে।এইবাস্তবতাকেসমর্থনকরে,কেউকখনোইব্ ন‘আব্বাস)রদিঃ(বাঅন্যকারোওথেকেআইনপ্রণয়ন)তাশরী‘ঈ(সম্পর্কেএরূপউক্তিখুঁজেপাবেনাযে,‘একটিশির্ কযাশির্ কঅপেক্ষাছোট’,যেহেতু আল্লাহ্ সুবহানাহু তা‘য়ালা ক্বুরআন-এ বলেছেন,
“ তাদেরকিএমনকতকশরীকদেবতাআছে,যারাতাদেরজন্যএমনএকদ্বীনেরবিধানদিয়েছেযারঅনুমতিআল্লাহ্ দেননি?আরযদিফয়সালারবাণীনাথাকত,তবেতোতাদেরব্যাপারেমীমাংসাহয়েযেত।নিশ্চয়ইযলিমদেরজন্যরয়েছেযন্ত্রনাদায়ক‘আযাব।”-সূরাআশ্ -শূরাঃ২১
এটা ইবরহীম ইব্ ন আল-হাকাম ইব্ ন জাহির رحمه الله থেকে তার পিতা আস্ -সুদ্দাই رحمه الله থেকে সম্পর্কিত যিনি বলেছেন, “ইব্ ন ‘আব্বাস )রদিঃ( বলেছেন,‘যেকেউবিচারকরারক্ষেত্রেযলিমছিলএবংএবংসেতাজানে,জ্ঞানছাড়াবিচারকরেঅথবাবিচারেরক্ষেত্রেঘুষনেয়,তবেসেকাফিরদেরঅন্তর্ভুক্ত।’”)৮৩(
যদিও এই উক্তিটি খুবই কঠোর দেখায়, আমাদের খুবই কাছ থেকে এটিকে দেখতে হবে। উপরে উল্লিখিত অপরাধসমূহের সাথে সম্পর্কযুক্ত করলে, এই হাদীসটি আমাদের দেখায় যে, এটা হয়বড়কুফ্ রঅথবাছোটকুফ্ র।বিচারকার্যেরতীব্রতা-এর উপর নির্ভর করে, আমরা কুফ্ র-এরমাত্রানির্ধারন করতে পারি যে, সেটাবড়নাকিছোট।যুল্ ম/অত্যাচার-এর ধরন এর উপর নির্ভর করে, আমরা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাই। যদি যুল্ ম/অত্যাচারমানুষ-এর হাক্ব্ /অধিকার-কে স্পর্শ করে, যেমন হয়েছিল যখন আল-হাজ্জাজ ইব্ ন ইউসুফ আস-সাক্বাফি-এর ব্যাপক যুল্ ম/অত্যাচার সংঘটিত হয়েছিল, তবে এটি একটি বড় পাপ )কাবীরা গুনাহ্ (, তবে তা কাউকে ইসলামের পরিধির বহির্ভূত করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এভাবে এটি ছোট কুফ্ র; যাহোক, যে কোন মুহূর্তেই যুল্ ম/অত্যাচারআল্লাহ্ সুবহানাহুতা‘য়ালা-এর হাক্ব্ -কে স্পর্শ করে, যেমনঃ আইন প্রণয়ন, তবে কোন সন্দেহ ছাড়া এটিবড়কুফ্ র এবং ততক্ষণ পর্যন্ত এটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না এটি বিরত হয় বা প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিকে তার পদ থেকে সরানো হয়। আর জেনে বা না জেনে আল্লাহ্ সুবহানাহু তা‘য়ালার আইন দ্বারা সবসময় বিচার করাও একই নিয়ম-বিধি ও শর্তাবলির মধ্যে পড়ে।
আমরা এখন ঘুষ বিষয়টিকে সম্বোধন করব,
বাইহাক্বি رحمه الله থেকে নেওয়া একটি হাদীস-এ বর্ণিত আছে, ‘আব্দুল্লাহ ইব ন মাস‘ঊদ )রদিঃ( আস্ -সুহ্ ত-এর ব্যাপারে )অসৎ উপায়ে প্রাপ্ত হারাম উপার্জন( জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, এবং তিনি জবাব দিয়েছিলেন,“এটারাশওয়া)ঘুষ(।”এরপর তাকে বিচারকার্যে যুল্ ম/অত্যাচার-এর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যার জবাবে তিনি বললেন,“এটাইহলঅতি/অত্যন্ত/ভারী/খুবকুফ্ র।”)৮৪(
মাসরুক্ব رحمه الله থেকে নেওয়া হয়েছে যে, তিনি মাস‘ঊদ )রদিঃ(-কে আস্ -সুহ্ ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যার প্রতি তিনি বললেন,“এটাহলরাশওয়া)ঘুষ(।” তিনি )মাসরুক্ব( জানতে চাইলেন,“আরবিচারকার্যে?”‘আব্দুল্লাহ ইব্ ন মাস‘ঊদ )রদিঃ( উত্তর দিলেন,“এটাইহলঅতি/অত্যন্ত/ভারী/খুবকুফ্ র।”এরপর তিনি সূরা মাইদাহ, আয়াতঃ ৪৪ তিলওয়াত করলেন।
ইব্ ন মাস‘ঊদ )রদিঃ( অপর এক ক্ষেত্রে সুহ্ ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন যখন বিচারকার্যে রাশওয়া ব্যবহৃত হয়েছে, ইব্ ন মাস‘ঊদ )রদিঃ( জবাব দিলেন,“না,যারাআল্লাহ্ যানাযিলকরেছেন,তদানুযায়ীবিচারকরেনা,তারাইকাফির)অবিশ্বাসী(,যারাআল্লাহ্ যানাযিলকরেছেন,তদানুযায়ীবিচারকরেনা,তারাইযলিম)অত্যাচারী(,যারাআল্লাহ্ যানাযিলকরেছেন,তদানুযায়ীবিচারকরেনা,তারাইফাসিক্ব)বিদ্রোহীপাপী(।”)৮৫(
আমরা আরোও উল্লেখ করতে চাই যে, ইমাম-আত্ -তাবারানি رحمه الله-এরআল-কাবীর-এ যখন বিচারকার্যে রাশওয়া-এর ব্যাপারে এসেছে, তখন এটিকে কুফ্ র হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে, আর মানুষের ক্ষেত্রে সুহ্ ত। ইব্ ন মাস‘ঊদ )রদিঃ( ও মাসরুক্ব رحمه الله ইতিমধ্যেই সুপারিশের উদ্দেশ্যে শাসকের নিকট যাওয়াকে সুহ্ ত-এর ব্যাখ্যা করেছেন।আর তারা বলেছেন,“যদিসেবিচারকার্যেরজন্যরাশওয়ানিয়েথাকে,এটাকুফ্ র।”‘আলী ইব্ ন আবী তালিব )রদিঃ()৮৬( এবং যাইদ ইব্ ন সাবিত )রদিঃ()৮৭(-ও একমত্ হয়েছেন। এভাবে, বিচারকার্যের ক্ষেত্রে রাশওয়া নেওয়া কুফ্ র হওয়া সম্পর্কিত বিধি-নীতি খুবই পরিচিত এবং সাহাবা ت এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ ছাড়া একমত।)৮৮(
—————————————- —————————————————————-
)৭১( বর্ণনাকারী হলেন, মুহাম্মাদ ইব্ ন খালাফ ইব্ ন হাইয়্যান رحمه الله, যিনি আখবার উল-ক্বুদাআ’-এর লেখক আল-ওয়াকি‘আ رحمه الله )মৃত্যু হিজরী ৩০৬ সন/ ৯১৮ খ্রীষ্টাব্দ( হিসেবে পরিচিত। ইব্ ন হাজার আল-‘আসক্বলানি رحمه الله বলেছেন,“তিনিবিশ্বস্ত।” আল-খতিব আল-বাগদাদি رحمه الله ]এই শাইখ আত্ -তারিক্ব কিতাব উশ্ -শারিফ )‘সম্মানিত কিতাবের পদ্ধতি’(-এরও লেখক, যা ক্বুরআন-এর আয়াতের সংখ্যা ও আবৃত্তিগত পার্থক্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করে[ বলেছেন,“তিনিজ্ঞানী,বিশ্বস্তএবংইতিহাসওমানুষসম্পর্কিতবিষয়েব্যাপকজ্ঞানরাখেন।”
)৭২( তার নাম ইয়াহইয়া ইব্ ন জা’জ رحمه الله। তিনিও বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী। আবী হাতিম رحمه الله তার ব্যাপারে বলেছেন, তিনি বিশ্বস্ত এবং তিনি আমার শাইখদের মধ্যে অন্যতম। ইব্ ন হিব্বান رحمه الله তার )ইয়াহইয়া( উল্লেখ করেছেন বিশ্বস্ত মানুষদের সাথে। ইব্ ন হাজার رحمه الله-ও তাদের মধ্যে তার উল্লেখ করেছেন যারা বিশ্বস্ত। বর্ণনার বাকি অংশ সম্পূর্ন বিশ্বস্ত এবং সর্বোচ্চ গুণাবলির অধিকারী।
)৭৩( ‘আব্দুর্ রয্ যাক رحمه الله একজন বিশ্বস্ত ইমাম।
)৭৪( সকল ’আলিমগণ তাকে বিশ্বাস করেন।
)৭৫( তিনি এবং তার পিতা উভয়েই বিশ্বস্ত, এবং তার পিতা তাঊস, ইব্ ন ‘আব্বাস ت-এর একজন ছাত্র।
)৭৬( আখবার উল-ক্বুদাআ’-ইমাম ওয়াকি‘আ, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৪০-৪৫
)৭৭( এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, এটাই সঠিক উপসংহার, যেহেতু এটা উসূল উল-ফিক্ব্ হ-এর অন্যতম মূলনীতি যে, ওহী-এর মধ্যে যা কিছু সাধারণ, তা নাযিলের কারণের উপর ভিত্তি করে বর্জন করা যাবে না। আল ‘আল্লামাহ্ আশ্ -শাতিবি رحمه الله তার ৪ ভলিউমের কাজ, আল-মুয়াফ্ ফিক্বত এবং তার অপর বই আল-‘ইতিসাম-এ তার বিখ্যাত উক্তি করেছেন, যার ব্যাপারে সকল ফুক্বাহাআ একমত্ ,بهسببعلىيقصرلاالعام“সাধারণবিষয়াদিকেতারনাযিলেরকারণেরউপরভিত্তিকরেবর্জনকরাযাবেনা)আসবাবউন্ -নুযুল(।” আয়াতউল-আহকাম)বিচার/শাসনসম্পর্কিতআয়াতসমূহ(রসূলﷺ-এরসময়যেদিনথেকেনাযিলহয়েছে,সেদিনথেকেএইবিধি-নীতিটিব্যবহৃত/অনুশীলনকৃতহয়েআসছে।বিচার/শাসনসম্পর্কিতসকলআয়াতসমূহনাযিলহয়েছে,বিশেষঘটনাবলিরজন্য,যাঘটেছেএকজনবাদু’জনসাহাবাت-এরসাথে,বাএকজনব্যক্তিওতারস্ত্রীরমধ্যে,কিন্তুতারবিধি-নীতিঅবশ্যইআমাদেরসময়পর্যন্তসকলমুসলিমেরমেনেচলতেহবে,শুধুমাত্রপথভ্রষ্ট্রাছাড়া,যারাবলবে,“এটাআমারকারণেনাযিলকরাহয়নি।” রসূলﷺকখনোইবলেননি,“এইবিচারবিধানটিশুধুমাত্রএইলোকওতারস্ত্রীরজন্যঅথবাএইব্যক্তিটিরজন্যইপ্রযোজ্য।” এগুলোইহলসেসবমন্তব্য,যেগুলোরএইজায়গায়বিস্তৃতকরেবলাপ্রয়োজন।
)৭৮( প্রাগুক্ত, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৪১
)৭৯( ‘আব্দুল্লাহ ইব্ ন মাস‘ঊদ ت সেই একই সাহাবী, যিনি আনন্দের সাথে বলেছিলেন,“ক্বুরআনথেকেকোনএকটিআয়াতনেইযানাযিলকরাহয়েছিল,এব্যতীতযে,আমিএরনাযিলহবারকারণজানতাম)বুখারীদ্বারাবর্ণনাকৃত(।” ইব্ ন ‘আব্বাস ت বড় হবার পূর্বে তিনিই ছিলেন ক্বুরআন-এর বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সবচাইতে জ্ঞানী সাহাবী, এবং তিনি ওহীর জ্ঞানের পথে একজন শক্তিশালী শক্তি হিসেবে গণ্য হওয়া বহাল রেখেছিলেন।
)৮০( তাফসীর ইব্ ন কাসীর, সূরাহ্ আল-মাইদাহঃ ৪৪ দেখুন,
সেই সাথে দেখুন, আখবার উল-ক্বুদাআ’-ইমাম ওয়াকি’আ, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৪০-৪৫
)৮১( মাজমু‘আ ফাতাওয়া, ভলিউমঃ ০৫-এ ইমাম ইব্ ন তাইমিয়্যাহ رحمه الله-ও এই একই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
)৮২( মুসনাদ আহ্ মাদ ইব্ ন হান্ বাল
)৮৩( আখবার উল-ক্বুদাআ’, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৪১
)৮৪( আখবার উল-ক্বুদাআ’, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৫১, ফুটনোট-এ
)৮৫( প্রাগুক্ত, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৫২-৫৩
)৮৬( ‘আলী ইব্ ন আবী তালিব ت হলেন সেই সাহাবী যার সম্পর্কে রসূল ﷺ বলেছেন,“আলীহলসর্বোত্তমব্যক্তিযেবিচারকার্যসম্পর্কেজানে,” আখবার উল-ক্বুদাআ’, ভলিউমঃ ০১, পৃষ্ঠাঃ ৪১-৫৩। যেহেতু এই বিষয়টি একটি বিচারকার্য সংক্রান্ত বিষয়, এটা শুধুমাত্র সঠিক যদি একজন ক্বাদি )বিচারক( এই বিষয়ে অভিমত্ /রায় দেন, আর ‘আলী ت ঠিক তা-ই করেছেন।
)৮৭( এই বিষয়ে যাইদ ইব্ ন সাবিত ت-এর বিচার বিশাল ওজন বহন করে। তিনি শুধুমাত্র ক্বুরআন-এর একজন অন্যতম সংগ্রহকই ছিলেন না, যিনি রসূল ﷺ-এর সময় ওহী লিখার কাজে নিয়োজিত ছিলেন, বরং তিনি হলেন তাদের একজন যাদের থেকে ফিক্ব্ হ শিখা রসূল ﷺ সর্বোত্তম বলেছেন। তাছাড়াও তিনি সেই ৪ জনদের মধ্যে একজন, যাদের থেকে ক্বুরআন শিক্ষার জন্য রসূল ﷺ সাহাবা ت-দের তাগিদ করেছেন, হোক তা তিলওয়াতসংক্রান্ত বা বিচারসংক্রান্ত বিষয়। বাকি ৩ জন হলেন, ইব্ ন মাস‘ঊদ, উবাই ইব্ ন কা’ব এবং মু‘আয ইব্ ন জাবাল ت।
)৮৮( আমরা এটি জানিয়ে দিতে চাই যে, ঘুষ নেয় এমন প্রত্যেক পাপী বিচারকই কাফির নয়, কিন্তু যদি সে শারী‘য়াহ ব্যতীত অন্য কোন কিছু দিয়ে বিচার/শাসন করে যার সংবিধানের আইনসমূহ শারী‘য়াহ-থেকে নেওয়া হয় নি, তবে সে অতি নিশ্চিতভাবে কাফির। সেই সাথে, আল্লাহ্ সুবহানাহু তা‘আলার আইনকে পরিবর্তন করার জন্য ঘুষ নেওয়াও বড় কুফ্ র, কিন্তু ঘুষ খেয়ে আল্লাহ্ সুবহানাহু তা‘আলার বিচারকার্য-কে কিছু ক্ষেত্রবিশেষে পরিবর্তন করা, পারিপার্শ্বিক/পরিস্থিতি ও ঘটনা/প্রকৃত অবস্থা-এর উপর ভিত্তি করে বড় কুফ্ র বা ছোট কুফ্ র হতে পারে। এখানে মূল উদ্দেশ্য হল, এটা দেখানো যে, সাহাবা ت-দের উক্তি এই বিষয়গুলোতে কত ওজনদার। এই সময়ের ’আলিমগণ ও মুসলিমরা এই বুঝটিকে খুবই সহজ ও হাল্কাভাবে নিচ্ছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না বিষয়টি এরূপ হয়ে যায় যে, আমরা এই বিষয়েই অজ্ঞ হয়ে পড়ি যে, কোথায় গিয়ে শাসক/বিচারকদের শারী‘য়াহ শেষ হয়, এবং কোথায় গিয়ে আল্লাহ্ সুবহানাহু তা‘আলার শারী‘য়াহ শুরু হয়।

Advertisements
Categories: Uncategorized | Leave a comment

Post navigation

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Blog at WordPress.com.

%d bloggers like this: