*** দাঁড়ি আসলে কিভাবে রাখা উচিৎ ***

আসসালামুলাইকুম,
আমাদের সমাজের অনেককে দেখা যায় দাড়ি রাখে । নিসন্ধেহে অনেক ভালো । কিন্তু কথা হচ্ছে এরা দাড়ি তো রাখেনা বরং এটার অবমাননা করে । কিছু লোক আছে দাড়ি
রেখে তার আলপনা আঁকে বলে এটা নাকি ফ্রেন্স কাটিং । তারা আসলে জানেনা দাড়ি কাঁটা সম্পূর্ণ হারাম । এরা আসলে দাড়ি রাখার গুরত্তই বুজেনা ।
কিছু তথ্য তুলে ধরি আপনাদের সামনে ।
১/ দাড়ি রেখে ঠিক মত সালাত আদায় করে না ।
২/ দাড়ি রেখে অনর্গল মিথ্যা কথা বলে ।
৩/ দাড়ি রেখে সিগারেট খায় যা সম্পূর্ণ অপমান জনক ।
৪/ দাড়ি রেখে অশালীন ভাষায় কথা বলে ।
৫/ দাড়ি রেখে নানান কাজের সাতে লিপ্ত থাকে ।
এবার আসুন দাড়ি আসলে কিভাবে রাখতে হবে ?
আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা মুশরিকদের বিপরীত কর, দাড়ি বাড়াও এবং গোফ ছোট কর। [সহিহ বুখারী, ৯ম খন্ড, পোশাক অধ্যায়, হাদিস-৫৪৭৩]
রাসুল (সাঃ) আরও বলেনঃরাসূল (ছাঃ)-এর স্পষ্ট নির্দেশ হ’ল, তোমরা দাড়ি ছেড়ে দাও ও গোঁফ ছাটো এবং মুশরিকদের বিপরীত কর’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৪২১)।
আল্লাহ্‌ সুবানাহুতালা বলেনঃ রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। (সুরা-হাশর-৭)
আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেনঃ তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে আশ্বাস দেব; তাদেরকে পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ দেব। যে কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়। (সুরা নিসা-১১৯)
আল্লাহ্‌ সুবানাহুতালা আরও বলেনঃকেউ রসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সব মুসলমানের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ঐ দিকেই ফেরাব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান। (সুরা নিসা-১১৫)
আরো বহু হাদিস রয়েছে যেখানে আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) বলেছেন দাড়ি ছেড়ে দাও, দাড়ি বাড়াও, দাড়ি লম্বা কর।
উম্মুল মুমেনিন আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দশটি জিনিস স্বভাবজাত। তম্মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেনঃ গোফ কর্তন করা ও দাড়ী ছেড়ে দেয়া।” (মুসলিম)
পক্ষান্তরে দাড়ি ছাঁটাই করার কোন প্রমান নেই, একটি ছাড়া। সেটি হল-
আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হজের মৌসুমে দাড়ি মুট করে ধরে নিচের অতিরিক্ত অংশটুকু কেটে ফেলতেন। [সহিহ বুখারী, ৯ম খন্ড, পোশাক অধ্যায়, হাদিস-৫৪৭২]
রাসুল (সাঃ) বলেনঃ “যে ব্যক্তি গোঁফ কাটে না সে আমার উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়।” (তিরমিযী, নাসাঈ, হাদীছ সহীহ)
রাসূল (সাঃ)বলেনঃ নারীর সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষকে এবং পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারীনী নারীকে অভিশাপ করেছেন।” (ছহীহ আবু দাউদ, তিরমিযী)
দাড়ি সম্পর্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকারঃ
দাড়ি অথবা চুল পেকে সাদা হয়ে গেলে সেটাকে সাদা রাখা নিষেধ। সেটাকে সাদা না রেখে কালো রং ব্যতীত অন্য যে কোন রং দ্বারা রাঙিয়ে ফেলতে হবে।
রাসুল (সাঃ) বলেনঃ ইয়াহুদ ও নাসারারা (চুল ও দাড়িতে) রং লাগায় না। সুতরাং তোমরা তাদের বিপরীত করবে।
(সহিহ বুখারী, ৯ম খন্ড, পোশাক অধ্যায়, হাদিস নং ৫৪৭৮)
নাবী (সাঃ) বলেছেন-শেষ যামানায় একদল লোকের আবির্ভাব হবে যারা সাদা চুল-দাড়ি কালো রঙ দিয়ে রাঙাবে। তারা জান্নাতের গন্ধও পাবে না।
(আবু দাউদ, পৃষ্ঠা-৮৪)
আর মানুষের প্রকৃতিগত স্বভাব গুলো সকলের জেনে রাখা উচিৎ, যাতে সে এগুলোর উপরেও আমল করতে পারেঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি মানুষের ফিদরাদ (প্রকৃতিগত স্বভাব) পাঁচটি:
১. খাতনা করা।
২. (নাভিড় নীচে লোমে) ক্ষুর ব্যবহার করা,
৩. গোঁফ ছোট করা।
৪. নখ কাটা।
৫. বোগলের পশম উপড়ে ফেলা।
(সহিহ বুখারী, ৯ম খন্ড, পোশাক অধ্যায়, হাদিস নং ৫৪৭১
আল্লাহ্‌ আমাদের সকল মুসলিমদেরকে সঠিক ভাবে দাড়ি রাখার তৌফীক দান করুন। আমীন ।

Advertisements
Categories: Uncategorized | Leave a comment

Post navigation

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Blog at WordPress.com.

%d bloggers like this: