এক শ্রেনীর মানুষ বলে, “নবী মুহাম্মাদ(সাঃ) কে তৈরী না করলে আল্লাহ কিছুই সৃষ্টি করতেন না। আল্লাহ মুহাম্মাদ(সাঃ) কে তাঁর নিজের নূর দিয়ে তৈরী করেছেন, মুহাম্মাদ(সাঃ)ন ূরের তৈরী। আর মুহাম্মাদ(সাঃ) এর নূরে সমস্ত জগত তৈরী। সর্ব প্রথম আল্লাহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে তাঁর নূর দ্বারা সৃষ্টি করেছেন”-এভাবে তারা আল্লাহর সাথে শিরক্ করে থাকে। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে আল্লাহ মাটির তৈরী আদমের থেকে স্বাভাবিক মানুষের যে নিয়ম আল্লাহ করেছেন সে পদ্ধতিতেই আবদুল্লাহর ওরসে মা আমিনার গর্ভে এ পৃথিবীতে আগমন ঘটিয়েছেন। আল্লাহর নূরে মুহাম্মাদ(সাঃ) পয়দা হলে মাতৃগর্ভে অপবিত্র রক্তের সাথে ভুমিষ্ট হতেন না। তিনি মাটির তৈরী বলেই অন্যান্য মানুষের মত ভুমিষ্ট হয়েছেন। তবে চল্লিশ বছর বয়সে আল্লাহ তাঁকে রিসালাত দিয়েছেন। তাঁর নিকট আল্লাহর ওয়াহী আসত,কুরআন মাজীদ তাঁর প্রতি নাজল হয়েছিল। তারপরও তিনি একজন মানুষ ছিলেন এবং আল্লাহর একজন বান্দা ছিলেন। যার স্বীকৃতি আমরা সর্বদা দিয়ে থাকি- ‘আবদুহু ওয়া রাসুলুহ’ বলে অর্থাৎ তিনি আল্লাহর বান্দা এবং রাসুল।
আল্লাহর রাসুল মাটির তৈরী মানুষ ছিলেন তার কিছু প্রমান তুলে ধরছি।
প্রথম প্রমাণ-
মুহাম্মাদ(সাঃ) অন্যান্য মানুষের মতই আদম সন্তান ছিলেন। মানুষ যেমন পানাহার করে, তেমনি মুহাম্মাদ(সাঃ) ও পানাহার করতেন। অন্যান্য মানুষের যেমন সন্তানাদি ছিল, তেমনি রাসুলদেরও সন্তানাদি ছিল,স্ত্রীও ছিল। মানুষের মত ভূল রাসুলেরও হত।
তিনি বলেছেনঃ “আমি মানুষ,তোমাদের মত ভূলে যাই। ভূলে গেলে অবশ্যই স্মরণ করিয়ে দেবে”।
দ্বিতীয় প্রমাণ-
অন্যান্য মানষের মত রাসুলেরও বংশ তালিকা ছিল। মুহাম্মাদ(সাঃ) এর পিতার নাম আবদুল্লাহ,মাতার নাম আমেনা, দাদার নাম আবদুল মুত্তালিব। একথা সবকলেই জানেন। রাসুল যে মানুস নবী ছিলেন কোরাইশ বংশে জন্ম গ্রহন তার বিরাট প্রমান।
তৃতীয় প্রমাণ
মুহাম্মাদ(সাঃ) অন্যান্য মানুষের মত পানাহার করতেন। রাসুল (সাঃ) পানাহার করতেন এজন্য কাফেররা বলত- ‘মুহাম্মদ কেমন রাসুল যে পানাহার করে’ এ কথাটি মক্কাবাসী পৌত্তলিকদের। এ প্রশ্নের উত্তর দানে আল্লাহ ওহী পাঠালেন
“আমরা যত রাসুল পাঠিয়েছি,তাঁরা সকলেই খাদ্য গ্রহন করত। আমরা তাদের এমন দেহ গঠন করিনি যে,তারা খাদ্য গ্রহন করবে না এবং চিরস্থায়ী বসবাস করবে”।
অর্থাৎ মানষের গঠন প্রণালী অনুযায়ী বিনা আহারে বাঁচতেও পারবেনা এবং মানুষ হিসেবে তাদের কেউই চিরস্থায়ী বসবাস করতে পারবে না। যেহেতু সমস্ত নবী খাদ্য গ্রহন করতেন, সেহেতু মুহাম্মাদ(সাঃ) ও একজন খাদ্য ভক্ষণকারী রাসুল ছিলেন।
এটা তাঁর মানুষ হবার অন্যতম প্রমাণ।
চতুর্থ প্রমাণ-
রাসুল অন্যান্য নবীদের মত মৃত্যু বরণ করেছেন। এরশাদ হচ্ছে-
“নিশ্চয়ই তুমি মৃত্যুবরণ করবে এবং তারা সকলে মৃত্যু বরণ করবে”। (সূরা যুমার ৩৯:৩০)।
রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অতি মানব ছিলেন না যে তিনি মৃত্যু বরণ করবেন না। বরং তিনি ছিলেন মানুষ নবী,তাই তাঁর মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী ছিল।
উল্লেখিত প্রমাণাদি দ্বারা একথা সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন মানুষ নবী ছিলেন। অন্যান্য মানুষের মতই তাঁর স্ত্রী-পুত্র-কন ্যা ছিল। অন্যান্য মানুষের মত তিনিও পানাহার করতেন এবং পরলোক গমন করেছেন। আর একথা কিভাবে গ্রহণ করা যায় যে, তিনি নূরের তৈরী, অথচ যাকে মানব জাতির হেদায়েতের জন্য, অনুসরণীয় একমাত্র আদর্শ হিসেবে আল্লাহ পাঠালেন মাটির মানুষদের কাছে। নূরের তৈরী সৃষ্টির প্রকৃতি,চাল-চলন তো হবে ভিন্ন, তাকে কিভাবে মানুষ পুরোপুরি আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে তার যথাযথ অনুসরণ করবে। যাদের বিবেক বুদ্ধি আছে, তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন এ ব্যাপারে আর কোন সংশয়ের অবকাশ থাকে না।
তারপরও যদি কারো সন্দেহ থাকে তবে নিচের আয়াত গুলো দেখেনঃ
১. “তুমি বল,”আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষই , ওহীর মাধ্যমে আমাকে প্রত্যাদেশ দেয়া হয়েছে যে, তোমাদের উপাস্য এক আল্লাহ্। সুতারাং তাঁর দিকে সত্য পথে চল; এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর।” -সূরা হামীম সিজদাহঃ০৬
২. “বল,”আমি তোমাদের মত একজন মানুষ; [কিন্তু] আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের আল্লাহ্ এক ও অদ্বিতীয়। সুতারাং যে তাহার প্রভুর সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎ কাজ করে, এবং প্রভুর এবাদতে কাউকে শরীক না করে।” -সূরা কাহফঃ১১০
৩. “(শুধু তুমিই মানুষ যে তা নয়) তোমার পূর্বে যে সব পয়গম্বর আমি প্রেরণ করেছিলাম তারাও ছিলো মানুষ , যাদের জন্য আমি ওহী মঞ্জুর করেছিলাম। যদি তোমরা তা না বুঝে থাক, তবে তাদের জিজ্ঞাসা কর যারা [আল্লাহ্র] বাণীকে ধারণ করে থাকে ।” -সূরা আম্বিয়াঃ০৭
৪. “তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের প্রতি রাসূল প্রেরণ করেছি , যে তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করে, তোমাদের পরিশুদ্ধ করে, এবং তোমাদের কিতাব ও প্রজ্ঞা এবং নূতন জ্ঞান শিক্ষা দেয়।” -সূরা বাকারাঃ১৫১
৫. “তোমার পূর্বেও জনপদ বাসীদের মধ্যে [নবী হিসেবে] প্রেরণ করেছিলাম মানুষকে , যাদের আমি ওহী প্রেরণ করেছিলাম ।”-সূরা ইউসুফঃ১০৯
৬. “বল:”আমার প্রভু মহিমান্বিত! আমি তো হচ্ছি কেবল একজন মানুষ,একজন রাসুল মাত্র ।”-বনী ইসরাইলঃ৯৩
৭. “এটা কি মানুষের জন্য আশ্চর্য্যের বিষয় যে, আমি তাদেরই একজনের নিকট আমার ওহী প্রেরণ করেছি ?”-সূরা ইউনুসঃ০২
৮. “তাদের অন্তর [তা নিয়ে] তুচ্ছ বিষয়ের মত খেলা করে। পাপীরা তাদের গোপন পরামর্শ লুকিয়ে রেখে [বলে]”সে কি তোমাদের মত একজন মানুষ নয়? তোমরা কি দেখে শুনে যাদুর কবলে পড়বে ?” -সূরা আম্বিয়াঃ০৩
৯. “এখন তোমাদের মধ্যে থেকেই তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছে।”-সূরা তাওবাঃ১২৮
১০. “এরা আশ্চর্য হচ্ছে এই ভেবে যে, তাদের মধ্য থেকেই তাদের জন্য একজন সর্তককারী এসেছে এবং অবিশ্বাসীরা বলে যে,”এ তো একজন যাদুকর , মিথ্যা বলছে ।” -সূরা ছোয়াদঃ০৪
১১. “তারা আশ্চর্য হয় যে , তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন সতর্ককারী এসেছে। সুতরাং অবিশ্বাসীরা বলে,”এটা তো বড় আশ্চর্য ব্যাপার !”-সূরা কাফঃ০২
১২. “এবং তারা বলে,”এ কি রকম রসুল, যে [সাধারণ মানুষের মত] আহার করে এবং রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করে ? তার নিকট কোন ফেরেশতা কেন অবতীর্ণ করা হলো না , যে তাঁর সাথে থাকতো সতর্ককারীরূপে? অথবা তাকে ধন ভান্ডার দেয়া হয় নাই কেন অথবা উপভোগের জন্য তার কোন বাগান নাই কেন ?”দুষ্ট লোকেরা বলে,”তোমরা তো এক যাদুগ্রস্থ লোকেরই অনুসরণ করছো।”-সূরা ফুরকানঃ০৭-০৮
১৩. “তোমাদের পূর্বে আমি যত রাসুল প্রেরণ করেছি তারা সকলেই ছিলো [সাধারণ] মানুষ যারা খাদ্য গ্রহণ করতো, এবং রাস্তায় চলাফেরা করতো । বস্তুতঃ আমি তোমাদের একজনকে অন্যজনের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ করেছি। [হে মোমেনগণ] তোমরা কি ধৈর্য্য ধারণ করবে ? নিশ্চয়ই আল্লাহ্ [সব কিছু] দেখেন।” -সূরা ফুরকানঃ২০
১৪. “তিনিই জেন্টাইল মানুষের জন্য তাদেরই মধ্য থেকে একজন রসুল পাঠিয়েছেন, যে তাদের নিকট আয়াত সমূহ আবৃত্তি করে, তাদের পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও প্রজ্ঞা। যদিও ইতিপূর্বে তারা ছিলো সুস্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে ।” -সূরা জুমুয়াহঃ২
১৫. “কিন্তু তাঁর সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসীদের প্রধাণগণ বলেছিলো,”আমরা তো তোমাকে আমাদের মত মানুষ ব্যতীত আর কিছু দেখছি না। আমাদের মধ্যে যারা নিম্নস্তরের, অপরিপক্ক বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন, তারা ব্যতীত আর কাউকে তোমাকে অনুসরণ করতে দেখছি না। আমরা আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব দেখছি না, বরং আমরা তোমাদের মিথ্যাবাদী মনে করি।”- সূরা হুদঃ২৭

হযরত রাসুল (স) মাটির তৈরি।তাকে নুরের তৈরি বললে সম্মানিত করা হয় না বরং সম্মান কমানো হয় কেননা একজন আল্লাহভীরু মানুষের মর্যাদা (নুরের তৈরি)ফেরেস্তাদে র চেয়ে অনেক বেশি। লক্ষ্যনীয় যে মাটির তৈরি হযরত আদম (আঃ) কে আল্লাহ তায়ালা ফেরেস্তাদেরকে সেজদাহ করতে বলেছিলেন। তাহলে কার সম্মান বেশি?
وَلاَ أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَآئِنُ اللّهِ وَلاَ أَعْلَمُ الْغَيْبَوَلاَ أَقُولُ إِنِّي مَلَكٌ وَلاَ أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لَن يُؤْتِيَهُمُ اللّهُ خَيْرًا اللّهُ أَعْلَمُبِمَا فِي أَنفُسِهِمْ إِنِّي إِذًالَّمِنَ الظَّالِمِينَ
V31/CH11
আর আমি তোমাদেরকে বলিনা যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে,আমি একজন ফেরেশতা; আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত আল্লাহতাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না। তাদের মনের কথা আল্লাহ ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব।
قُلْ إِنَّمَآ أَنَاْ بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَى إِلَىَّ أَنَّمَآ إِلَـهُكُمْ إِلَـهٌ وَاحِدٌ فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَآءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَـلِحاً وَلاَ يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدَا
V110/CH18
Say:”I am only a man like you. It has been revealed tome that your God is One God. So whoever hopes for the meeting with his Lord, lethim work righteousness andassociate none as a partnerin the worship of his Lord.”)
বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, (তোমাদের সাথে শুধু পার্থক্য হলো) আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদনকরে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে।

“নিঃসন্দেহে তুমি মহান চরিত্রের ওপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছো।”{সূরা আল ক্বালামঃ আয়াত ৪}

বিভিন্ন সহীহ হাদীস থেকে সঠিকভাবে যে সব কথা প্রমাণিত হয়েছে, সেসব হচ্ছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মোত্তালেবের পুত্র। তার মায়ের নাম হচ্ছে আমেনা বিনতে ওয়াহাব। এই দুজনের দাম্পত্য জীবনে আবদ্ধ হওয়ার পর মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য মানুষদের মতোই স্বাভাবিক নিয়মে জন্মগ্রহণ করেন। অন্যান্য শিশু কিশোরদের মতোই তাঁর শৈশব কৈশরকাল অতিবাহিত হয়। অন্য রসূলদের যেভাবে রেসালাত বা নবুওতের দায়িত্ব দেয়া হয় সেভাবেই তাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম নবী ছিলেন না। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বভাবগতভাবে অন্য মানুষের মতোই সমাজে জীবন যাপন করেছেন। তার নির্ধারিত আয়ুস্কাল শেষ হওয়ার পর তিনি মৃত্যু বরণ করেন। অন্য মানুষেরা যেভাবে মৃত্যুবরণ করে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“অবশ্যই (একদিন) তুমি মারা যাবে- তারাও নিঃসন্দেহে একদিন মৃত্যুমুখে পতিত হবে।”{সূরা আঝ ঝুমারঃ আয়াত ৩০)

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন মানুষ ছিলেন, এ কথা কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় স্বীকার করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“(হে নবী) তুমি (এদের) বলো, আমি তো তোমাদের মতোই একজন (রক্ত মাংসের) মানুষ, তবে আমার ওপর ওহী নাযিল হয়।”{সূরা আল কাহফঃ আয়াত ১১০}

আরো বলা হয়েছে, “(হে নবী,) তুমি (এদের শুধু এটুকু) বলো, মহান পবিত্র (আমার) আল্লাহ তায়ালা, আমি তো কেবল (তাঁর পক্ষ থেকে) একজন মানুষ, (একজন) রসূল বৈ কিছুই নই।”{সূরা বনী ইসরাঈলঃ আয়াত ৯৩}

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে তাকিদ দিয়েছেন, তারা যেন সম্মান ও মর্যাদার ক্ষেত্রে সেই রকম বাড়াবাড়ি না করে, যে রকম বাড়াবাড়ি খৃষ্টানরা হযরত ঈসা আলাইস সালাতু আস্‌ সালাম-এর ব্যাপারে করেছিলো। খৃষ্টানরা হযরত ঈসা আলাইস সালাতু আস্‌ সালাম-কে আল্লাহর পুত্রে পরিণত করেছিলো।

কাজেই এ কথা জানা গেল যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষ ছিলেন, তিনি নূরের তৈরী ছিলেন না। সোনারূপারও তৈরী ছিলেন না। বরং সাধারণ মানুষের মতোই বস্তুগত উপাদানেই তিনি সৃষ্টি হয়েছিলেন। তবে রেসালাত, নবুওত এবং হেদায়াতের কর্তব্য পালনের দিক থেকে তিনি ছিলেন নিঃসন্দেহে আল্লাহর নূর। নূর বা আলোর পথে হেদায়াত দানকারী। পথভ্রষ্ট মানুষের জন্যে তিনি ছিলেন আলোর মশাল। এ কারণেই আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“তোমাদের কাছে (এখন) তো আল্লাহর পৰ থেকে আলোকবর্তিকা ও সুম্পষ্ট কেতাবও এসে হাযির হয়েছে।”{সূরা আল মায়িদাঃ আয়াত ১৫}

* ‘ড. শায়খ ইউসুফ আল কারদাওয়ী’- (আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, মিশর) এর ‘ফতোয়া’ গ্রন্থ থেকে অনুবাদ করেছেন ‘হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ’, আল কোরআন একাডেমী লন্ডন

Advertisements
Categories: বিশ্বনবী (স:), Uncategorized | Leave a comment

Post navigation

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Create a free website or blog at WordPress.com.

%d bloggers like this: